শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

যশোর (ডিবি) কর্তৃক ডাকাতি মামলা সহ কয়েকটি চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন, লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার, গ্রেফতার-১৪ জন

হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : গত ইং ০১/০২/২০২৫ খ্রিঃ শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকা হতে রাত অনুমান ০২.৫৫ ঘটিকার মধ্যে কোতয়ালী মডেল থানাধীন নতুন উপশহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিপরীত পার্শ্বে গোল্ডেন বাইক নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড আবুল হোসেন(৫৫) কে জিম্মি করে অজ্ঞাতনামা ডাকাত/ডাকাতেরা শাটারের তালা ভেঙ্গে মোট ২৩,১০,০০০/- টাকার ব্যাটারী সহ অন্যান্য মালামাল […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৯:৫১

হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

গত ইং ০১/০২/২০২৫ খ্রিঃ শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকা হতে রাত অনুমান ০২.৫৫ ঘটিকার মধ্যে কোতয়ালী মডেল থানাধীন নতুন উপশহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিপরীত পার্শ্বে গোল্ডেন বাইক নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড আবুল হোসেন(৫৫) কে জিম্মি করে অজ্ঞাতনামা ডাকাত/ডাকাতেরা শাটারের তালা ভেঙ্গে মোট ২৩,১০,০০০/- টাকার ব্যাটারী সহ অন্যান্য মালামাল ডাকাতি করে নেয় এবং দোকানের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিক্স খুলে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-১, তাং-০১/০২/২০২৫খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়। 

ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোরকে ঘটনা উদঘাটনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। 

পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে জেলা পুলিশ ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ ডিবি’র এসআই/ রাজেশ কুমার দাশ, এসআই/ খান মাইদুল ইসলাম রাজিব, এসআই/মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই/ বিপ্লব সরকার, কনস্টেবল আব্দুল বাতেন সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গত ইং ০৪/০২/২০২৫খ্রিঃ অভিযান পরিচালনা করে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে বরিশাল এলাকায় ডাকাতি সংঘটন করে ফিরে যাওয়ার সময় ডাকাত দলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলে পুলিশের বাঁধা ডিঙ্গিয়ে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার ব্যারিকেড ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। তখন ডিবি’র টিম আসামিদের পিছনে ধাওয়া করলে তারা একটি মিনি ট্রাকে ডাকাতি করে আনা গ্যাসের সিলিন্ডার ডিবি’র গাড়িকে লক্ষ্য করে বারবার ছুড়তে থাকে। 

একপর্যয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পার হয়ে আসামিরা এক্সপ্রেস ওয়ের ফাঁকা জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার সহ মিনি ট্রাকটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তখন ডিবির টিম উক্তস্থান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি মিনি ট্রাকটি জব্দ করে এবং আসামিদের গ্রেফতারের নিমিত্তে অভিযান পরিচালনা অব্যহত থাকে।

পরবর্তীতে ডিবি কর্তৃক সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্যদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে গত ইং ১৭/০২/২০২৫খ্রিঃ ডাকাতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এবং অভিযান পরিচালনাকালে ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ দুপুর অনুমান ১২.১০ ঘটিকায় মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা এলাকা হতে আসামি মোঃ আলমগীর হোসেন(৫৯), পিতা-মৃত লতিফ মোল্লা’কে গ্রেফতার পূর্বক তার হেফাজত হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কাঁটার ও দড়ি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে। 

ধৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন আসামি মোঃ নজরুল ইসলাম(৫০), পিতা-মৃত শামসুদ্দিন মিয়া এর গ্যারেজ হতে আসামি ডাকাত সর্দ্দার মোঃ হিরা রহমান @বিজয় হোসেন(২৬), পিতা-আমজাদ হোসেন, রবিন মোল্লা(৩৯), পিতা-দুদু মোল্লা, মোঃ রাকিব@ভাগ্নে রাকিব(২৫), পিতা-সাদেক হোসেন, মোঃ সোহেল(৩২), পিতা-মৃত টোকন, মোঃ আমির হোসেন(৫৮), পিতা-মৃত হাশেম’দেরকে গত ইং ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ বেলা১৩.৩০ ঘটিকায় গ্রেফতার করে। 

ধৃত আসামিদের হেফাজত থেকে একটি কাটার, একটি দা, সেলাই রেঞ্জ, ২টি গ্রান্ডিং মেশিন, ০১টি সাদা পিক আপ, ০২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, কালো তার, রড এবং ০২ টি ওয়েলন্ডিং মেশিন, ০৩ টি টায়ার মালামাল সমূহ ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ বেলা ১৩.৪৫ ঘটিকায় জব্দ করে। 

ধৃত আসামিদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানাই গত ইং ০১/০২/২০২৫খ্রিঃ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন উপশহরের কবরস্থান মেইন রোডস্থ গোল্ডেন বাইক শোরুমের নাইট গার্ডকে জিম্মি করে ব্যাটারী, টায়ার ও খুচরা যন্ত্রাংশ ডাকাতি করে নিয়ে যায়। 

ধৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গত ২৫/০১/২০২৫খ্রিঃ রাত ০২.০০ঘটিকায় চাঁচড়া বাজার মোড় সংলগ্ন সবুজ মৎস খামার ও মৎস অক্সিজেন নামক দোকানের তালা ভেঙ্গে ৫২ পিচ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি করে নেয়। 

এছাড়াও যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন মুড়লী মোড় হতে ২২/১২/২০২৪খ্রিঃ রাত অনুমান ০১.০০ ঘটিকায় একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে অনুমান ১৫,০০,০০০/-টাকা মূল্যের টায়ার চুরি করে নিয়ে যায়। 

উপরোক্ত মালামাল সমূহ উদ্ধারের লক্ষ্যে ধৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবা করার এক পর্যায়ে তাদের প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির লুন্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী যাত্রাবাড়ি এলাকার মোঃ জুয়েল মাতুব্বর(৪০), পিতা-মৃত তোরাব আলী মাতুব্বর এর নিকট হতে নতুন ৩০টি ও পুরাতন ০৭টি ব্যাটারি ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ১৬.১০ ঘটিকায় উদ্ধার করা হয় এবং ডাকাতির লুন্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী টঙ্গিবাড়ি এলাকার মোঃ আলমগীর শেখ(৪০), পিতা-মোফাজ্জেল শেখ কে গ্রেফতার করতঃ তার হেফাজত হতে সর্বমোট ৩০টি ইজিবাইকের ব্যাটারি ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ১৬.৪০ ঘটিকায় উদ্ধার করা হয় এবং চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়কারী মোঃ জাহিদ(৩০), পিতা-মৃত মকবুলকে উক্তস্থান হতে গ্রেফতার করা হয়। 

এছাড়াও খিলগাঁও থানাধীন চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী আসামি আব্দুল কাদের (৩২), পিতা-মৃত আব্দুল শুকুর খাঁন কে গ্রেফতার পূর্বক তার হেফাজত হতে ২৬টি চোরাই অক্সিজেন সিলিন্ডার উদ্ধার করতঃ ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ১৯.২০ ঘটিকায় জব্দ করা হয়। 

পলাতক আসামি তোফাজ্জল, পিতা-অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাত, কদমতলী এর নিউ আজা আয়রন মার্কেট, পোস্তখোলা আলীবহর, ঢাকা দোকান হতে ১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ১৮/০২/২০২৫খ্রিঃ ২১.৩০ ঘটিকায় জব্দ করা হয় এবং উক্তস্থান হতে চোরাই মাল ক্রয়বিক্রয়কারী আসামি বাবলু রহমান @ বাবু(৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল জলিল, মোঃ নিজাম উদ্দিন(৪৮), পিতা-মোঃ আবুল মিয়া’দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মালামালঃ

১।ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কাটার ও দড়ি উদ্ধার

২।একটি কাটার, একটি দা, সেলাই রেঞ্জ, ২টি গ্রান্ডিং মেশিন, ০১টি সাদা পিক আপ, কালো তার, রড, ০২ টি ওয়েলন্ডিং মেশিন

৩। ব্যাটারি ৬৭ টি (নতুন+পুরাতন)

৪। অক্সিজেন সিলিন্ডার ৪৪টি

৫।মিনি ট্রাক ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার ১১০টি

৬। ০৩ টি টায়ার।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।