মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নাটোরে অবৈধ সেচ পাম্প স্থাপন বৈধতার শর্তে বিএডিসির বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা

নাটোর জেলা প্রতিনিধি, মনিরুল ইসলাম ডাবলু  সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সেচ কমিটির অনুমতি ছাড়াই গভীর নলকূপ স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে রাসেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অবৈধ সেচ পাম্প স্থাপনের বৈধতা পেতে আদালতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নাটোর রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন এবং বড়াইগ্রাম জোনের সহকারি প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ০৩:৪৩

নাটোর জেলা প্রতিনিধি, মনিরুল ইসলাম ডাবলু 

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সেচ কমিটির অনুমতি ছাড়াই গভীর নলকূপ স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে রাসেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অবৈধ সেচ পাম্প স্থাপনের বৈধতা পেতে আদালতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নাটোর রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন এবং বড়াইগ্রাম জোনের সহকারি প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন রাসেদুল ইসলাম। মামলায় রাসেদুল ইসলামের দাবি,

প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা লেনদেনের পরেও পাম্প স্থাপনের ছাড়পত্র না পেয়েই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার বিবাদী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সঠিক নয়, বরং অবৈধভাবে বসানো সেচ পাম্পের ছাড়পত্র পেতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানহানিকর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বিষয়ে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে অবৈধভাবে সেচ স্থাপন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। রাসেদুল ইসলাম নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার রওশন আলীর ছেলে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালে বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় ১ কিউসেক সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য সেচ কমিটির কাছে আবেদন করেন রওশন আলী।

আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএডিসির প্রতিনিধিরা সরেজমিন পরিদর্শণ করেন। কিন্তু সেচ পাম্প স্থাপনের নীতিমালার সাথে রওশনের আবেদনের বিষয়টি সাংঘর্ষিক ও ছাড়পত্র প্রদানসাপেক্ষ না হওয়ায় সেচ কমিটি পাম্প স্থাপনের ছাড়পত্র দেয়নি। পরে এক প্রকার জোর করেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই রাসেদুল ইসলাম ও তার দুলাভাই মাহবুর গভীর নলকূপ স্থাপন করে।

অথচ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৮ এর ৫ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতীত কৃষি কাজের জন্য কোন স্থানে কোন নলকূপ স্থাপন করা যাইবে না। এছাড়া, কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩০(ত্রিশ) দিন বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন।

অথচ রাসেদুল সেচ কমিটির ছাড়পত্র ছাড়াই পাম্প স্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি অবৈধভাবে ছাড়পত্র পেতে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলীকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়েও ছাড়পত্র না পাওয়ার অভিযোগ এনে গত ২৮ জানুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মামলার বিবাদীরা বলছেন ভিন্ন কথা। বিএডিসির প্রকৌশলীরা জানান, অবৈধভাবে বসানো সেচ পাম্পের ছাড়পত্র পেতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও মানহানিকর মামলা করা হয়েছে। একমাত্র উপজেলা সেচ কমিটি সেচ বসানোর ছাড়পত্র দিতে পারে। যে কমিটির সভাপতি হলেন ইউএনও। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে শ্রীরামপুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় ছাড়পত্র ছাড়াই গভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচ দিচ্ছেন রাসেদুল ও তার দুলাভাই মাহবুর। এছাড়া মামলায় উল্লেখিত নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘুষ দিয়ে মাড়িয়া মৌজায় জেএল-৫৫ এর ৩০৬৫ নং দাগে

সাজজারুল ইসলাম শুভ ম্যানেজার করে অবৈধভাবে বিএডিসির নলকূপ স্থাপনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া কবে, কখন, কোন কর্মকর্তাকে কত টাকা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি মামলার বাদী রাসেদুল ও তার দুলাভাই মাহবুব।

এমন কি নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে চেনেন না বলেও স্বীকার করেন তারা। শ্রীরামপুর গ্রামের অপর কৃষক শামীম জানান, আমি দুই বছর আগে সেচ পাম্পের অনুমতি নিয়ে নলকূপ স্থাপন করে সেচ দিয়ে আসছি।

কিন্তু রাসেদুল সেচ কমিটি থেকে অনুমতি না নিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। এছাড়া আমার আউটলেট বন্ধ করে দিয়ে আমাকে নানা হুমকি দেওয়া দিচ্ছে।

বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর অধীনে শ্রীরামপুর এলাকার সেচ পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, সেচের ছাড়পত্র পেতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি বিশ^াসযোগ্য নয়। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

মামলার বাদী রাসেদুল ইসলাম জানান, সেচ পাম্প বসানোর ছাড়পত্র পেতেই মামলা করা হয়েছে। ছাড়পত্র পেলে আর কোন সমস্যা নেই। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। 

বিএডিসি বড়াইগ্রাম জোনের সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, ঘুষ নিয়ে একক ভাবে কাউকে সেচ ছাড়পত্র দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কয়েকটি সরকারি অফিসের প্রতিনিধি কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৯ সদস্য বিশিষ্ট সেচ কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এখানে এককভাবে কাউকে ক্ষমতা দেওয়া হয় নাই। বিএডিসি কি করে আবেদনকারীকে ছারপত্র দিবে? টাকা লেনদেন করেও ছাড়পত্র না পেয়ে মামলার বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণেদিত এবং মানহানিকর। 

বিএডিসি নাটোর রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, উপজেলা সেচ কমিটির সাথে জেলা পর্যায়ের দপ্তরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মানহানিকর।

রাসেদুল সেচ পাম্পের জন্য সেচ কমিটির কাছে আবেদন করে। কিন্তু নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট দুরুত্ব না মেনে সেচ পাম্প বসানোর কারণে সেচ কমিটি ছাড়পত্র দেয়নি। সেই পাম্পের বৈধতা নেওয়ার জন্য বিএডিসির বিরুদ্ধে এই ধরনের মিথ্যা, মানহানিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বড়াইগ্রাম উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, রাসেদুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি সেচ কমিটির ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।