রবিউল আলম,কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের জেরে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের মাত্র ৪ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে। এ ঘটনায় মানবপাচার ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় পাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও ঘটনার সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের বাসিন্দা আবির হোসেনের (১৯) সাথে তার প্রতিবেশী খাদিজা আক্তারের (২১) দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের জেরে খাদিজা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিষয়টি খাদিজার পরিবার আবিরের পরিবারকে জানালে আবিরের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), চাচা নজরুল ইসলাম মনির (৪৮) এবং স্থানীয় মাতব্বর হাজী মোস্তফা মোল্লা পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান।
গত ২৩ অক্টোবর (২০২৬) চৌদ্দগ্রামের ‘প্রাইম’ নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে খাদিজা আক্তার একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। সন্তান জন্মের পর নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামিদের প্ররোচনায় একটি পাচারকারী চক্রের সাথে যোগসাজশ করা হয়। চক্রের সদস্য স্বপ্না বেগম (৪৮), কাজী বাছির, মো: নাজিম উদ্দীন ও রিপনের সহায়তায় মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সদ্যজাত শিশুটিকে অন্যত্রে বিক্রি ও সরিয়ে ফেলা হয়।
ঘটনাটি কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি অবিলম্বে শিশুটিকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের কঠোর নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপারের আদেশে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সাথে শিশু বিক্রির সেই চুক্তিপত্রটি জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম (৪২) ও রিপন (৩৮)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ এবং ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।