মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই আসুন, তিনি আরেকজন শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের চালক পরিবর্তন হলেও পরিচালনার ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারী রয়েল পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভার আগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ড্রাইভার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মেশিন পরিবর্তন হয়নি। সেই মেশিনের পরিবর্তন না হলে সবচেয়ে দক্ষ চালক দিয়েও গাড়িকে সঠিক পথে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা রয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা না গেলে আগের ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতাকে কেবল দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশকে নানামুখী চাপে রাখতে ভারত আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে এসব তৎপরতা চালাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে দেশের পক্ষে কারা অবস্থান নিচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রধান উপদেষ্টা ও পুরো পরিষদ গঠনের পদ্ধতিও নির্ধারণ করতে হবে। সর্বদলীয় মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারেই এ সরকার গঠন করতে হবে।
কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে এনসিপি তাতে অংশ নেবে না। একই সঙ্গে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। এ কর্মসূচির অন্যতম দাবি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের কথা জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি জানান, নদী ভরাট, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তাঁরা। এসব সমস্যা সম্পর্কে মানুষের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ জানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।