জিয়াউর রহমান,পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা (৫০) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির মালিকের অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর মোল্লা বালিপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইউসুফ আলী মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকার বাসিন্দা ফরিদ শিকদার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে না জানিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচে ভবন নির্মাণ করেন। পরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি প্লাস্টিকের পাইপও স্থাপন করা হয়। পাইপটিতে বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র থাকায় সেটি নিয়ে কাজ করার সময় জাহাঙ্গীর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ফরিদ শিকদারের বাড়ির বাথরুমের ছাদে সিলিংয়ের কাজ করছিলেন জাহাঙ্গীর। কাজের একপর্যায়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি রান্নাঘরে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে জাহাঙ্গীরকে নিচে পড়ে থাকতে দেখি। পরে জাহাঙ্গীর জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট থেকে তিনি নিচে পড়ে গেছেন।’
বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাছিমা বেগমও ঘটনার সময় বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে জাহাঙ্গীরকে নিচে পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান।
বালিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বাড়ির মালিক ফরিদ শিকদার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে না জানিয়ে ভবন নির্মাণ করেছেন। ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন থাকা অবস্থায় সেখানে পাইপ লাগানোর বিষয়টিও আমাদের জানানো হয়নি। বিদ্যুৎ লাইন অপসারণের জন্য লিখিত অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’
এদিকে, বাড়ির মালিকের অবহেলা ও অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ শিকদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল নম্বর চাওয়া হলে তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩৫) নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী জাহাজে করে সাগরে আছেন। তাঁর মোবাইল নম্বর আমার কাছে নেই। আমি ইমুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি।’
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’