আমজাদ শিবলু, নোয়াখালী (সেনবাগ) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সেনবাগে জয়নুল আবেদীন ফারুক ফাউন্ডেশন (ZAF)-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে উপজেলার ৬ নম্বর কাবিলপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের এমপি সড়কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জয়নুল আবেদীন ফারুক ফাউন্ডেশনের (ZAF) সদস্য সচিব বাহার চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একটি ফলজ ও একটি বনজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল আবেদীন ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, “ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। সেনবাগেও ZAF এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, “জয়নুল আবেদীন ফারুক ফাউন্ডেশন আমার পরিবারের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে।
আমার স্ত্রী ও দুই মেয়ের সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে আমরা এটি পরিচালনা করছি। এখানে কারও অনুদান নেই, কারও কাছ থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয় না।”
তিনি জানান, ZAF-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ছাগল অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একটি ছাগল দুটি বাচ্চা দিলে একটি উপকারভোগী রাখবেন এবং অন্যটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নতুন আরেকটি অসহায় পরিবারের কাছে দেওয়া হবে। এতে আরও বেশি মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, “স্বৈরাচার সরকারের আমলে নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও আমরা সীমিত পরিসরে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চালিয়ে গেছি। এখন আবার নতুন উদ্যমে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি।”
তিনি জানান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর পর্যায়ক্রমে অসচ্ছল নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ, যেসব পরিবারের টিউবওয়েল নেই তাদের বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন এবং প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রয়োজনীয় স্থানে আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “ZAF-এর সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তারা সবাই তরুণ। আমরা খেলাধুলা, বৃত্তি পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চাই। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিউয়নের চেয়ারম্যাণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।