সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকায় পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরতে শুরু করেছে শত শত মাছধরার ট্রলার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তার পর গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বন্দরে ফিরে আসেন। ফলে মহিপুর ও আলিপুর মৎস্য বন্দরে নোঙর করেছে অসংখ্য ট্রলার।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও সাগর উত্তাল রয়েছে। পটুয়াখালীতে গত তিন দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মাছের আড়তগুলোতে সরবরাহ কমে গেছে এবং অনেক ট্রলার ঘাটে অবস্থান করায় কর্মব্যস্ততা কমে এসেছে। তবে জেলেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সবাই আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
জেলেরা জানান, গভীর সমুদ্রে বাতাসের বেগ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হওয়ায় মাছ ধরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা দ্রুত বন্দরে ফিরে এসেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও মাছ ধরতে সমুদ্রে যাবেন বলে জানান তারা।
এদিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এখনও বিক্ষুব্ধ রয়েছে। সাগরে বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে এবং নদ-নদীর পানির উচ্চতাও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলেদের সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।