প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর গুলশানের বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে বাসভবনটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এসেছে এবং এর চারপাশে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সম্মতির পর ১৫ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং গত শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই ঘোষণার পর এই বাসভবনের চারপাশের সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে এবং এর উপরে আরও তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া আশপাশের সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে ছবি তোলা, স্নাইপার হামলার সম্ভাবনা বা যেকোনো ধরনের নজরদারির ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিশেষ পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো উচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হবে এবং ২৫ মিটারের মধ্যে কোনো নতুন ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে ভবনের চারপাশের পাঁচ ফুট এলাকার মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন গাছপালা অপসারণ করা হবে।
এর আগে, গত বছরের ৫ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশান এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
নামজারি হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয় এবং গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এই বাসভবনে ওঠেন তারেক রহমান। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি এই বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
যদিও সরকারপ্রধানের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের একটি অংশ যমুনা থেকে পরিচালিত হলেও তার মূল আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে গুলশানের এই ১৯৬ নম্বর বাসভবনই। বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণার ফলে এখন থেকে এই বাসভবনের আঙিনা, কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সব ধরনের তথ্য, নথি ও দলিলপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে একটি পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া বাসভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ ইউনিটও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।