শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুর শিশু পরিবারের ভবন সংস্কার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মজনুর রহমান আকাশ , মেহেরপুর মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবার (বালক) ডরমেটরি ভবনের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে অন্যের লাইসেন্সে কাজ করেছেন বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও বর্তমানে সহকারী পরিচালক কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর সাথে […]

নিউজ ডেস্ক

০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০:১২

মজনুর রহমান আকাশ , মেহেরপুর
মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবার (বালক) ডরমেটরি ভবনের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে অন্যের লাইসেন্সে কাজ করেছেন বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও বর্তমানে সহকারী পরিচালক কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর সাথে আতাত করে সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন তিনি। এছাড়াও গণপূর্তের উপসহকারি প্রকৌশলী ইমরান হোসেনের যোগসাজসে সংস্কার কাজের এস্টিমেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে উপসহকারি প্রকৌশলী ও সমাজসেবা একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছেন।
জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরকারি মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবার (বালক) ডরমেটরি ভবন সংস্কার কাজের মুল ঠিকাদার অঞ্চল ভট্টাচার্যের লাইসেন্সে হচ্ছে। তবে সাবেক মন্ত্রীর প্রভাবে কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর মাধ্য খোকন কাজটি করেন। সংস্কার কজের মধ্যে ছিলো
জানালায় থাই গ্লাস স্থাপনসহ টয়লেট মেরামত বাবদ ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ১৯ টাকা, ডরমিটরি ভবনের ডাইনিং ও প্রার্থনা কক্ষ মেরামত বাবদ ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৭৪ টাকা, স্টোর রুম ও রান্নাঘরের মেরামত বাবদ ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২১৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী সরকারি মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবার (বালক) ডরমেটরি ভবনের জানালায় থাই গ্লাস স্থাপনসহ টয়লেট মেরামতে প্লাস্টার, হোমোজিনিয়াস ফ্লোর টাইলস
স্থাপন, ওয়াল টাইলস, ভিতরে প্লাস্টিক পেইন্ট, বাহিরে ওয়েদারকোট, ১৩টি জানালায় নতুন থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও গ্লাস  স্থাপন, মেহগনি কাঠের নতুন ২টি দরজার চৌকাঠ ও পাল্লা, ৫টি বিব কর্ক, ২টি সাওয়ার হেড, ৮টি এক্সজস্ট ফ্যান, ৮টি টিউবলাইট। ডরমিটরি ভবনের ডাইনিং ও প্রার্থনা কক্ষে মিরর পলিশড ফ্লোর টাইলস স্থাপন, ভিতরে প্লাস্টিক পেইন্ট, বাহিরে ওয়েদারকোট, ১২টি জানালায় নতুন থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও গ্লাস
স্থাপন, ১০টি জানালায় নতুন গ্রীল, মেহগনি কাঠের নতুন ৩টি দরজার চৌকাঠ ও পাল্লা কাজ বাবদ ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৭৪ টাকা এবং ডরমিটরি ভবনের স্টোররুম ও রান্নাঘরে মিরর পলিশড ফ্লোর টাইলস, রান্নাঘরে হোমোজিনিয়াস ফ্লোর টাইলস, ওয়াল টাইলস স্থাপন, ওয়েদারকোট, ২টি জানালায় নতুন থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও গ্লাস স্থাপন, ১৫টি জানালায় নতুন গ্রীল, মেহগনি কাঠের নতুন ২টি দরজার চৌকাঠ ও পাল্লা, ১৮-মিমি পুরু বার্মাটিক বোর্ডের কেবিনেট, ১-অশ^শক্তি ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন পাম্প মটর স্থাপন কাজ বাবদ ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২১৩ টাকা বরাদ্দ ও মঞ্জুরী প্রদান করা হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, শিশু পরিবার (বালক) চার তলা বিশিষ্ট একটি ডরমেটরি ভবন। কার্যাদেশে  অনুযায়ী ডরমেটরি ভবনের জানালায় থাই গ্লাস স্থাপনসহ টয়লেট মেরামতের কথা উল্লেখ থাকলেও শুধুমাত্র ভবনের চারতলার টয়লেট মেরামত করা হয়েছে। টয়লেটের ভিতরে প্লাস্টিক পেইন্ট, বাহিরে ওয়েদারকোট দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ডিসটেম্পার। ১৩টি জানালার কথা উল্লেখ থাকলেও জানালা পাওয়া যায়নি তবে বারান্দায় ৮টি থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও গ্লাস স্থাপন করা হয়েছে। মেহগনি কাঠের নতুন ২টি দরজার চৌকাঠ ও পাল্লা দেওয়ার কথা থাকলেও দরজার দেখা মেলেনি। ২টি সাওয়ারহেডের একটিও দেওয়া হয়নি। ৮টি এক্সজস্ট ফ্যান এবং ৮টি টিউবলাইটের মধ্যে দেওয়া হয়েছে ১টি ফ্যান ও ১টি লাইট।
ডরমিটরি ভবনের ডাইনিং ও প্রার্থনা কক্ষ মেরামতে মিরর পলিশড ফ্লোর টাইলস স্থাপনের জায়গায় অনিয়ম কওে দেওয়া হয়েছে হোমোজিনিয়াস। ফ্লোর না ভেঙ্গেই টাইলস বসানো হয়েছে। ভিতরে প্লাস্টিক পেইন্ট ও বাহিরে ওয়েদারকোট দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ডিসটেম্পার। ১২টি জানালায় নতুন থাই এ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও গ্লাস স্থাপন জায়গায় ৬টিতে ফ্রেম ও গøাস স্থাপন করা হয়েছে, ১০টি জানালায় নতুন গ্রীল লাগানোর কথা থাকলেও ৬টিতে নতুন গ্রীল লাগানো হয়েছে। মেহগনি কাঠের নতুন ৩টি দরজার চৌকাঠ ও পাল্লা লাগানো হলেও দরজা ও পাল্লা মেহগনি কাঠের না বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।
স্টোররুম ও রান্নাঘরের মেরামতে ওয়েদারকোট দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। ১৫টি জানালায় নতুন গ্রীলের কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে জানালা আছে ৫টি। মেহগনি কাঠের নতুন ২টি দরজার চৌকাঠ ও পাল্লা দেওয়ার কথা থাকলেও ১টি দেওয়া হয়েছে, ১৮-মিমি পুরু বার্মাটিক বোর্ডের কেবিনেট জায়গায় দেওয়া হয়েছে নিন্মমানের পারটেক্স কেবিনেট।
এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক অঞ্চল ভট্টাচার্য জানান, আমার লাইসেন্সে কাজ করছে খোকন। কাজ যেহেতু খোকন করেছে তাই খোকন যাকে টাকা দিতে বলেছে আমি তার হাতে দিয়ে দিয়েছি। যেহেতু আমি কাজ করিও নি, তাই জানিও না। কাজে কোন অনিয়ম থাকলে যে কাজ করছে সেটা তাদের ব্যাপার।
এবিষয়ে আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে সমাজসেবার সহকারি পরিচালক কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা এই কাজের গুণগত মান ও এস্টিমেটে যা বলা আছে সে অনুযায়ী কাজ না হলে যে বিল বাকী আছে তা ছাড় করব না।
সমাজসেবার উপপরিচালক আশাদুল ইসলাম বলেন, যে কাজগুলোতে অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো যৌক্তিক। আমি উপলব্ধি করতে পারছি এস্টিমেটে এদিক-সেদিক করা হয়েছে। যেহেতু আমি এখানে আসার পর কাজটি পেয়েছি সেহেতু যেখানে কাজের যে সমস্যা আছে তা ঠিক না করলে কোন ছাড় নেই। অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঠিকাদারের কাছে শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়া হবে। আমার সুযোগ আছে কাজটি বুঝে নেওয়ার। না হলে ওই শিশুদের কাছে আমি দায়ী হয়ে থাকব।
উল্লেখ্য: বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা গড়ে সমাজসেবার সহকারি পরিচালক করেছেন একক রাজত্ব। সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও তার অনুসারীদের নানা অনৈতিক সুবিধা দিয়ে দুর্নীতি আর অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন তিনি। এর আগেও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হয়। একের পর এক দুর্নীতি করলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি থাকছেন ধরা ছোয়ার বাইরে ও বহাল তবিয়তে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।