রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রামগঞ্জ একই কর্মস্থলে ৩০ বছর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল

মোহাম্মদ তারেক, রামগঞ্জ প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন হেলালের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ব্যবসা, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে রামগঞ্জ পৌরসভা তিনি নিজ এলাকায় একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন। দুই দফা বদলির আদেশ […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২১:০১

মোহাম্মদ তারেক, রামগঞ্জ প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন হেলালের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ব্যবসা, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে রামগঞ্জ পৌরসভা তিনি নিজ এলাকায় একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন। দুই দফা বদলির আদেশ হলেও রহস্যজনক কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।

পৌরসভার বিক্ষুদ্ধ কর্মচারী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন। ফলে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সহজে পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছেন। স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মো: জাকির হোসেন হেলাল ১৯৯৫ সালে রামগঞ্জ পৌরসভায় লাইসেন্স পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে তিনি প্রধান সহকারী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সাল থেকে ১২তম গ্রেডে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সূত্র আরও জানায়, ২০১২ সালে তাকে খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভায় এবং ২০২৫ সালে নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে যোগদানের পূর্বেই অজ্ঞাত কারনে উভয় বদলির আদেশ স্থগিত হয়ে যায়।

সরকারি চাকরি বিধিমালা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারেন না। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিজ জেলা বা স্থানীয় এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিজ নামে, বেনামে বা পোষ্যদের ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো লাভজনক পেশায় জড়িত থাকতে পারেন না।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জাকির হোসেন হেলাল রামগঞ্জ জিয়া শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই মার্কেটে তার ‘তাজিন ফ্যাশন’ নামে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা রয়েছে।

এছাড়া ‘মাহমুদা করপোরেশন’ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্সের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রামগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত থাকা জাকির হোসেন হেলাল বিভিন্ন মেয়র ও প্রশাসকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

কেউ তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকী-ধমকী ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না এবং ঠিকাদারি ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে বেশি সময় ব্যয় করেন।

তাদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে স্থাপিত ৩০০ গভীর নলকূপের প্রকল্পে উপকারভোগীদের কাছ থেকে প্রতি নলকূপে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের কারণে বর্তমানে এসব নলকূপের প্রায় ৮০ শতাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে।

এছাড়া সাবেক পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগসাজশে পৌরসভা সংলগ্ন আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আতœসাতের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ১ কোটি টাকার কাজ নিজস্ব লোকজনকে নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালনা করে তিনি পরোক্ষভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রমে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তারা।

কর্মচারীরা আরও দাবি করেন, তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অতীতে মামলা, পোস্টারিং, সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বরং বদলির আদেশ জারি হওয়ার পরও তিনি বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে থেকে যান। ফলে তার প্রভাব ও হয়রানির ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ, আনোয়ার ও হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলে স্বার্থেও সংঘাত, প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

তারা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে রামগঞ্জ পৌরসভার অভিযোগের বিষয়ে রামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন হেলাল বলেন,“বাংলাদেশের অনেক পৌরসভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।

আমিও বিধি-বিধান অনুসরণ করেই চাকরি করছি। আমি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। ঠিকাদারি লাইসেন্সটি আমার শ্যালকের নামে। উক্ত লাইসেন্স নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে।

পৌরসভার আবাসন প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণকাজে জমির মালিকদের কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, তবে কাজ সম্পন্ন করতে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সংরক্ষিত আছে।

আইইউজিআইপি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত কমিটির সদস্যরা পরিচালনা করছেন। আমি মাঝে মাঝে তাদের প্রয়োজনীয় ইট, পাথরসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ে সহযোগিতা করি এবং কাজের তদারকি করি।

আমার বিরুদ্ধে অফিসের যেসব ব্যক্তি অভিযোগ করছেন, তারা অনেক সময় যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হন না অথবা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না। এ বিষয়ে আমি তাদের সতর্ক করলে তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালান।”

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।