বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত একটি দলে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চাঁদপুর জেলা ইউনিট কমান্ড।
সোমবার (১৮ মে) চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গঠনতন্ত্রের ধারা ২৯ (ঙ) অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মো. নঈম জাহাঙ্গীরের টেলিফোন নির্দেশনা এবং চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম রবের অনুমতিক্রমে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সদস্য সচিব মো. মুজিবুর রহমান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার (১৬ মে) রাতে মতলব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত যুব ও সুধী সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে তিনি সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং দলটির আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সহকারী সেক্রেটারি ও চাঁদপুর-২ আসনে দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল মুবিন। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে যোগদানের পর জসিম উদ্দিন বলেন,
“আল্লাহর আইন ও কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হোক—এই প্রত্যাশা থেকেই আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি।”
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও মুক্তিযোদ্ধা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একজন মুক্তিযোদ্ধা নেতার জামায়াতে যোগদান এবং পরবর্তীতে দ্রুত সাংগঠনিক বহিষ্কারাদেশ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।