বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ছাত্রদল-ছাত্রলীগ একসাথেই ক্যাম্পাস ঠিকঠাক করে, শিবিরের বিরুদ্ধে সবাই

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কলের রেকর্ড সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অডিওতে তাকে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করতে শোনা যায়। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১৯:০৮

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কলের রেকর্ড সম্প্রতি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অডিওতে তাকে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করতে শোনা যায়। হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের সময় ভুক্তভোগী অন্য একটি মোবাইল ফোন দিয়ে পুরো বিষয়টি ভিডিও আকারে ধারণ করেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা ঐ ভিডিওতে কথোপকথনের পাশাপাশি আবু সাঈদ রনির ব্যবহৃত নম্বরও দেখা যায়। এতে অডিওটির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

জানা যায়, অডিওটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের। সে সময় ভয়ে ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তবে সম্প্রতি আবু সাঈদ রনির ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে অডিওটি প্রতিবেদকের হাতে আসে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে আবু সাঈদ রনিকে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছে চাঁদা দাবি করতে শোনা যায়। কথোপকথনে তিনি বলেন, একটি মামলার তালিকায় কয়েকজনের নাম এসেছে এবং টাকা দিলে বিষয়টি ‘হোল্ড’ রাখা যেতে পারে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কারণেই ভুক্তভোগীর নাম মামলায় এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। অডিওতে রনি বলেন, “সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও—সব জায়গায় টুকটাক যাবে।”

কথোপকথনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অল্প সময়ের জন্য রাজনৈতিক পদে ছিলেন উল্লেখ করলে রনি বলেন, “তুই পদ কখন পাইছিস কী না পাইছিস, সেটা তো আর ওরা (শিবির-সমন্বয়ক) দেখেনি।” এসময় তিনি ইঙ্গিত দেন, শিবির ও সমন্বয়কদের মাধ্যমে মামলা দেওয়া হলেও ছাত্রদল তা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার পতন না হলে কিংবা নির্বাচন হয়ে গেলে এসব কেস-কামারি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।একইসঙ্গে,“ছাত্রদল-ছাত্রলীগ একসাথেই তো ক্যাম্পাসে সব ঠিকঠাক করে, শিবিরের বিরুদ্ধে সবাই”—এমন মন্তব্য করতেও শোনা যায় তাকে।

দ্বিতীয় কলের কথোপকথনে রনি বলেন, ‘কয়েকজনের নাম আপাতত হোল্ডে রাখা হয়েছে।’ এসময় ভুক্তভোগী টাকা কমানোর জন্য শিবির ও সমন্বয়কদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বললে রনি জানান, ‘বিষয়গুলো ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির মাধ্যমেই ঠিক হবে।’ এসময় ভুক্তভোগী নেতা রনির পরামর্শে নিজ ভাতিজাকে ইবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনের সাথে কথা বলতে পাঠান বলে শোনা যায়। একপর্যায়ে রনি বলেন, ‘কারও কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার কিংবা ২০ হাজার টাকা দিয়েও বিষয়গুলো ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে।’ তবে ভুক্তভোগীর আর্থিক সচ্ছলতার কারণে তার নিকট লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়েছে বলে রনি জানান। এছাড়া মামলা থাকলে বিদেশ যাত্রা ও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনেও জটিলতা হতে পারে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখাতেও শোনা যায় তাকে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় আবু সাঈদ রনি পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ রনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়েছিল। সেই হ্যাক হওয়া আইডিটি কোনো একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রির সাইটে ভুলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে বিভিন্ন মানুষ আমার ওই পুরনো নম্বরে মেসেজ পাঠাতো।’ তিনি আরও জানান, ঐ নম্বরটি তিনি আগেই ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বর্তমানে সেই আইডি বা নম্বরের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।’

এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা নির্দিষ্ট কাউকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে পুরনো ঘটনাকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কেউ ভুয়া প্রমাণ তৈরি করে বা কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি সম্পর্কে কোনো ভুক্তভোগী প্রমাণসহ উপস্থিত হলে যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত সমাধান ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অডিওতে তার নাম নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন। ৫ আগস্টের পরে আমরা বলে দিয়েছিলাম যে, কেউ যদি প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির নাম ভাঙিয়ে কিছু বলে তাহলে সরাসরি আমাদেরকে জানাবেন। দুই বছর পরে এসে এসব কথা তো মানুষকে ফাঁসানোর মতো কথা। যে অভিযোগ করেছে তাকে ডাকো আমরা সমাধান করি।’

এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।