মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজধানী

‘হালালা সেন্টারে’র ফাঁদে তথ্য ফাঁস শত শত মানুষের

ফেসবুকে ‘হালালা সেন্টার’ নামক একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে হিল্লা বিয়ের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে শত শত মানুষের নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিয়েছিলেন। বিয়ের প্রক্রিয়ার বদলে কয়েক দিনের মাথায় আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), ছবি, ইমেল ও ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগীরা চরম সামাজিকভাবে বিব্রত ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই চক্রের […]

‘হালালা সেন্টারে’র ফাঁদে তথ্য ফাঁস শত শত মানুষের

‘হালালা সেন্টারে’র ফাঁদে তথ্য ফাঁস শত শত মানুষের

নিউজ ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ১০:৫৮

ফেসবুকে ‘হালালা সেন্টার’ নামক একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে হিল্লা বিয়ের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে শত শত মানুষের নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিয়েছিলেন। বিয়ের প্রক্রিয়ার বদলে কয়েক দিনের মাথায় আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), ছবি, ইমেল ও ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগীরা চরম সামাজিকভাবে বিব্রত ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এই চক্রের মূল হোতা ‘সানজিদা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে গত ৭ জুন রাজধানীর মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আবু মুছা নামে এক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সানজিদা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। কিছুদিন আগে ওই আইডি থেকে হিল্লা বিয়ের (মুহাল্লিল-সংক্রান্ত) জন্য আগ্রহী পুরুষদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপনে হাফেজ, আলেম, শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহের কথা দাবি করে ইমেইলে আবেদন পাঠাতে বলা হয়।

এর কিছুদিন পর, হঠাৎ করেই ওই একই আইডি থেকে অন্তত ৮০ জন আবেদনকারীর ইমেইল ও সিভির স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দেওয়া হয়। যেখানে ভুক্তভোগীদের নাম, পেশা, ফোন নম্বর ও ব্যক্তিগত পরিচয় দৃশ্যমান ছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, ‘হাজার হাজার’ আবেদন থেকে ‘স্মারক হিসেবে’ এগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। এই তথ্য ফাঁসের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হলেও ভুক্তভোগীদের জন্য এটি গুরুতর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার সংকট তৈরি করেছে।

যেসব ব্যক্তির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায় ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি। কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের সিভি বা নম্বর অনুমতি ছাড়াই এই চক্রটি ব্যবহার করেছে। কেউ সন্দেহ করছেন তাদের জিমেইল বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই তথ্য নেওয়া হয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, চাকরি বা অন্য কোনো প্রয়োজনে অতীতে জমা দেওয়া তথ্যভাণ্ডার থেকে তাদের ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যের কারণে অপরিচিত নম্বর থেকে অনবরত কল ও বার্তার মুখোমুখি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং দ্রুত তথ্য অপসারণ ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পোস্টগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। আইডিটির সঙ্গে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেসবুকের ‘সানজিদা আক্তার’ আইডির বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর থানায় জিডি করা আবু মুছা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই আইডি থেকে নানা রকম ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। আইডির ব্যবহারকারী একজন পুরুষ বলে তার ধারণা। যদিও তিনি পরিচয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু মুছা বলেন, ২০২৪ সালে প্রথমে তাবলিগের সাদপন্থি জিয়া বিন কাসেমের নামে একটি আইডি খোলা হয়। সেটি তার ছেলে পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, জিয়া কারাগারে আছেন। তাকে ছাড়ানোর জন্য টাকা প্রয়োজন। সন্দেহ হওয়ায় আমি জিয়ার পরিবারের খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তার ছেলেরা ছোট। কেউ ফেসবুক আইডি খোলেনি, টাকাও চায়নি। মজার ব্যাপার হলো, পরে এক সময় সেই ভুয়া আইডিতে ক্লিক করে দেখা যায়, সেটিই এখন সানজিদা আক্তার নামে চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি আইডি জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় আমার মনে হয়, এটি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে তিনি ওই আইডি থেকে কথিত হালালা সেন্টারের নামে প্রচারণা শুরু করেন। পরে দেখি, হিল্লা বিয়েতে আগ্রহী প্রচুর মানুষের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ফেসবুক-সংক্রান্ত জিডি সাধারণত আমরা সাইবার সেলে পাঠিয়ে দিই। এই জিডির তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে তা এখনই বলতে পারছি না।

সানজিদা আক্তার আইডির একটি পোস্টে কমেন্ট করেছেন নায়িম হাসান নামে এক ব্যক্তি। সেখানে তিনি বলেছেন, আইডিটি ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর খোলা হয়। একই দিনে এর নাম পরিবর্তন করে ‘মুফতি জিয়া বিন কাসেম’ রাখা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল নাম পরিবর্তন করে ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা– ড্রিম এক্সপ্ল্যানেশন’, একই বছরের ১০ অক্টোবর ‘মুহাদ্দিসা অপু’ এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ‘সানজিদা আক্তার’ নাম ব্যবহার করা হয়। আইডিতে ব্যবহৃত প্রোফাইল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, সেটি একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া। একইভাবে কভার ফটোটি দোলা মল্লিক নামের আরেকটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে গত ৮ জুন রাতে ওই আইডি থেকে করা একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ আমাকে গ্ৰেপ্তার করছে। বর্তমানে আমি উত্তরা থানাতে আছি। আল্লাহ সহায় হোন।’ এ ঘটনাটি যাচাই করে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের দাবি সঠিক নয়। উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় যোগাযোগ করে এমন তথ্য মেলেনি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।