বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,
দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে দলটি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার ধুপখোলার মাঠে জনাকীর্ণ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, অভিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার আসন ছিল ঢাকা-৬। এই আসন থেকেই তিনি বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে রক্তাক্ত হয়েছেন। সেই ঐতিহাসিক আসনেই এখন ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তারই পুত্র ইশরাক হোসেন। পুরান ঢাকার প্রতিটি অলিগলি ও মানুষের সমস্যার সঙ্গে তিনি পরিচিত বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করে পুরান ঢাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। গত ১৬ বছরে দেশে যে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে, সেখান থেকে দেশকে বের করে আনা একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব, কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই করার বাস্তব অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে।
তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল। যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন ছিল না। খালেদা জিয়ার সাহসী সিদ্ধান্তের কারণেই কমিশনকে শতভাগ স্বাধীন রাখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরিস্থিতি কেমন ছিল তা মুক্তিযোদ্ধারাই সবচেয়ে ভালো জানেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটে। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আসে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং নারী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে চলাচল ও ব্যবসা করতে পারতেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার বাস্তব অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে। দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন, আর সেই পরিকল্পনা বিএনপির হাতেই আছে বলে তিনি দাবি করেন।