বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য খবর

দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তারেক রহমান, জোর প্রস্তুতি বিএনপির

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ন মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর তার এই সফর শুধু একটি জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটিকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে নতুন করে সাংগঠনিক সক্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা এবং মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি নগরীর ঐতিহাসিক […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৯

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ন মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই দশক পর তার এই সফর শুধু একটি জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটিকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে নতুন করে সাংগঠনিক সক্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা এবং মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আগামী ২৫ জানুয়ারি নগরীর ঐতিহাসিক রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশকে ঘিরে তাই চট্টগ্রাম বিএনপিতে বিরাজ করছে ব্যস্ততা ও প্রত্যাশার আবহ।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতৃত্বের কাছে এই সফর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর দলকে আবার মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার প্রয়াস হিসেবেই চট্টগ্রাম সফরকে দেখা হচ্ছে। দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বড় মাঠের কর্মসূচি হওয়ায়, তার বক্তব্যকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা মনে করছেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই নগরীতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাতে পারলে তা জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির শক্ত অবস্থান জানান দেবে। সে কারণেই নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাড়াও পার্বত্য অঞ্চল এবং কক্সবাজার পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি বিস্তৃত করা হয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে এবার শুধু নেতাকর্মীদের নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই সফরকে ঘিরে দলীয় কাঠামোর বাইরে থেকেও সাধারণ মানুষের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর মূলত তিনটি বার্তা বহন করছে। প্রথমত, দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি মাঠের রাজনীতিতে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি একটি শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার প্রয়াসও এতে রয়েছে।

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রতীকী স্থান। ২০১২ সালে এখানেই সর্বশেষ বক্তব্য দিয়েছিলেন প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর নানা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বাস্তবতায় বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতা এই মাঠে বড় সমাবেশ করেননি। প্রায় ১৪ বছর পর একই মাঠে দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতাকেই সামনে নিয়ে আসছে।

তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এসেছিলেন, তখন তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। সেই সফরের পর দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফর তার রাজনৈতিক ভূমিকার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতারা।

সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতির চিত্রও এবার ব্যতিক্রমী। নগরজুড়ে চলছে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা ট্রাক ও স্বাগত মিছিল। বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনগুলো আলাদা আলাদা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলো তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি চালাচ্ছে। দলীয় নেতারা বলছেন, এবার সমাবেশে তরুণদের উপস্থিতি হবে চোখে পড়ার মতো।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের এক নেতা জানান, অনেক তরুণের কাছে তারেক রহমানের বক্তব্য আগামীর রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের আশা, তিনি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও গণতন্ত্র নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবেন। এতে তরুণদের মধ্যে বিএনপির প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

মাঠের প্রস্তুতির দিক থেকেও সমাবেশটি বড় পরিসরের। পলোগ্রাউন্ড মাঠে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় মঞ্চের সামনে ও আশপাশে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মাঠের পুরো ব্যবস্থাপনাই জনসমাগমের চাপ সামাল দেওয়ার মতো করে সাজানো হচ্ছে।

নিরাপত্তা ইস্যুটিও সমাবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ চট্টগ্রামে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন। গণমানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। সিলেট–হবিগঞ্জের মতো এখানেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। অতীতের সব জনসমাগমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ট্রাকে করে সমাবেশের প্রচারণা চলছে, স্বাগত মিছিল হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় গানের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তরুণ ও যুবকদের সম্পৃক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীর বাইরেও তরুণ-যুবকেরা এতে অংশ নেবেন। তারা তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, এই সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, অতীতের যেকোনো সমাবেশের তুলনায় এবার মানুষের অংশগ্রহণ বেশি হবে। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক বার্তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির জন্য এই সমাবেশ একটি ‘লিটমাস টেস্ট’। দীর্ঘদিন ধরে দলটির মাঠের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় সমাবেশ করতে পারলে বিএনপি আবারও সক্রিয় বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারবে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর, সেটিও এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিমাপ করা হবে।

অন্যান্য খবর

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে লেখা হয় ‘সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুথু দে’। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলের দেয়াল ছেয়ে গেছে ‘একটা একটা […]

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭

আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি

গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের দেয়ালে লেখা হয় ‘সব দেয়ালে লিখে দে, গুপ্ত দেখলে থুথু দে’। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলের দেয়াল ছেয়ে গেছে ‘একটা একটা গুপ্ত ধর, ধইরা ধইরা প্যাকেট কর’, ‘গুপ্ত কট’, ‘গুপ্ত সন্ত্রাস’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে। এছাড়াও ডাস্টবিনগুলোতে লেখা হয়েছে ‘আমি গুপ্ত’, ‘গুপ্তদের এখানে রাখুন’।

ছাত্রদল নেতাদের মতে, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড রুখতেই তাদের এই উদ্যোগ। শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সারা বাংলাদেশে চলমান এই পরিস্থিতিতে গুপ্ত শিবিরেরা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে গুপ্ত হয়ে আছে।

আমরা চাই বাংলাদেশে এই গুপ্ত বাহিনী নিপাত যাক এবং সাধারণভাবে মানুষের সাথে মিশে প্রয়োজনে রাজনীতি করুক। এই ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন কাউকে পাওয়া গেলে, শক্ত হাতে দমন করবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মামুন সরকার জানান, ৫ আগস্টের পর একটা পক্ষের দাবি ছিলো রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থী নাম ব্যবহার করে তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করতে হলে ওপেনে করুক। ইতিবাচক হলেও গোপনে কোনো রাজনীতি হয় না। আমরা আজকে থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে গুপ্ত রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করছি। গুপ্তদের ঠিকানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হবে না।

ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য সরকার বলেন, আমরা আদর্শবাদী রাজনীতির ধারাকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেয়াল লিখন করেছি। এই বাংলাদেশে কখনো গুপ্ত রাজনীতি এবং রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলতে দেয়া যাবে না। আমরা দেয়ালে লিখেছি ‘দড়ি ধরে মারো টান, গুপ্ত যাবে পাকিস্তান’।

নজরুলের এই বিদ্রোহী ক্যাম্পাস থেকে আমরা সকল ধরনের গুপ্ত রাজনীতি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপতৎপরতা আর চলতে দেয়া যাবে না। এই ধরনের গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

অন্যান্য খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে […]

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার জীবিত বা মৃত অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে নিখোঁজ ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন-এর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি জোরদার করেছে এবং স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অন্যান্য খবর

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন। হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে […]

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

নিউজ ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।

হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে শেয়ার করা কোনো বাসায় তার থাকা উচিত ছিল না।

আহমদ আরও বলেন, ও (হিশাম) যে রুমমেটদের সঙ্গে থাকত, তা আমি জানতাম না। ওর হয় একা থাকা উচিত ছিল, না হয় গৃহহীন হয়ে পথে থাকা উচিত ছিল।

২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ তার রুমমেট জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টি (২৭) হত্যার ঘটনায় দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি খুনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় গত রোববার মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যদিও সেগুলো এখনো বৃষ্টির কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, টাম্পা বে-র ওপর অবস্থিত হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর বা তার কাছাকাছি এলাকায় উভয়ের মরদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।

হিশামের ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ জানান, গত শুক্রবার সকালে হিশাম হঠাৎ তাদের বাড়িতে হাজির হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তিনিও ফোনদাতাদের একজন ছিলেন।

আহমদ বলেন, সে খুবই অদ্ভুত আচরণ করছিল, তাই তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমি পুলিশ ডাকি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে হিশাম আবুঘারবিয়েহের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

হিশাম আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। ঘটনার দিন লিভিং রুমে হিশামকে কেবল তোয়ালে পরা অবস্থায় ভিডিও গেম খেলতে দেখেন তার ছোট বোন। ওই সময় ছোট বোন এর প্রতিবাদ জানালে হিশাম তার দিকে এগিয়ে যান এবং চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

গত শুক্রবার বেশ নাটকীয়ভাবে হিশাম আবুঘারবিয়েহকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা যখন তাকে ঘিরে ধরেন, তখন তিনি কেবল একটি তোয়ালে পরা অবস্থায় হাত তুলে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন হিশামের ভাই আহমদ। এতে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারছি না। আমার খুবই খারাপ লাগছে। যা ঘটেছে তার জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এবং আমার পুরো পরিবার প্রচন্ড লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছি।

আহমদ আবুঘারবিয়েহ আরও বলেন, আমরা অতীতেও পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে হিশাম আবুঘারবিয়েহের বিরুদ্ধে দুইবার সুরক্ষামূলক আদেশের (প্রোটেক্টিভ অর্ডার) আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের আবেদনটি মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।

২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ করার সময় বিচারক উল্লেখ করেন যে, শারীরিক লাঞ্ছনার (ব্যাটারি) ফৌজদারি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়নি, তাই এই অনুরোধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

আহমদ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ নিয়ে তিনি আর সামনে এগোননি।

তিনি বলেন, আমি অভিযোগ তুলে নিয়েছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল এতে অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরপরই আমি অনুতপ্ত হয়েছিলাম।

২০২৩ সালের সেই সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদনের একটি কপি সিবিএস নিউজের হাতে এসেছে। সেখানে আহমদ লিখেছিলেন, তার ভাই তাকে কয়েকবার ঘুষি মেরেছিলেন ও শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি লেখেন, এতে আমার রক্তপাত হয় এবং মুখে কালশিটে পড়ে যায়। আমি পুলিশকে ফোন করতে বাইরে গেলে সে পরিবারের মিনিভ্যানটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ হবে না বুঝতে পেরে সে আবার ফিরে আসে।

অন্য এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ছোট ভাই অভিযোগ করেন, হিশাম তার মায়ের সঙ্গে সামান্য তর্কের পর পুরো বসার ঘর (লিভিং রুম) তছনছ করে ফেলেছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই ‘মাঝরাতে চিৎকার করে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করতেন এবং বলতেন যে আমাদের সবার উচিত তার সামনে মাথা নত করা।

হিশাম আবুঘারবিয়েহ পক্ষে লড়ছে হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের অফিস। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি এই মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। তবে পেশাগত নৈতিকতা এবং আমাদের মক্কেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়েই আমরা বর্তমানে মনোনিবেশ করছি।

আহমদ আবুঘারবিয়েহের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানিয়েছে, হিশাম আবুঘারবিয়েহ সমাজের জন্য এখনো এক বড় হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিনহীনভাবে কারাগারে রাখা উচিত।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। তারা সত্য জানার জন্য যে অপেক্ষা করছেন, আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি।

এদিকে সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।