জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটকে ‘ইসলামী জোট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না মন্তব্য করে তিনটি মৌলিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ১০১ জন আলেম। তারা বলেছেন, ঈমান ও আকিদা বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামী জোট বলা যায় না। ঈমান-আকিদা সর্বাগ্রে—এ বিষয়ে কোনো আপস গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানান আলেমরা। বিবৃতিটি পাঠ করেন দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাহদী হাসান। আলেমদের ভাষ্য, তথাকথিত এই নির্বাচনী সমঝোতাকে ‘ইসলামী জোট’ আখ্যা দিয়ে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যারা ইসমতে আম্বিয়া (নবীদের নিষ্পাপ হওয়া) বিশ্বাস করে না এবং সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়া ইসলামি চিন্তা-চেতনার সুস্পষ্ট পরিপন্থী। এ ধরনের ঐক্য কখনোই ইসলামের ঐক্য হতে পারে না।
আলেমরা তিনটি আপত্তির কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, কোনো জোটের নামের সঙ্গে ‘ইসলামী’ শব্দ যুক্ত হলেই তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ইসলামি জোট হয় না। দ্বিতীয়ত, দেওবন্দী আকিদা ও মানহাজে বিশ্বাসী সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাবিরোধী চিন্তার সঙ্গে ঐক্য গড়তে পারে না। তৃতীয়ত, ইসলামী রাজনীতি কেবল ক্ষমতা অর্জনের কৌশল নয়; এটি দ্বীন রক্ষা ও উম্মাহর ঈমান সংরক্ষণের দায়িত্বশীল মাধ্যম।
আলেমরা স্পষ্টভাবে জানান, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘সমমনা ইসলামী জোট’-কে তারা ইসলামি রাজনৈতিক জোট হিসেবে স্বীকৃতি দেন না এবং এ বিষয়ে আলেম-উলামা ও সচেতন মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।