রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনেও নেই কৃষি বিভাগে তদারকি, সরকারের সহযোগীতা চান চাষীরা

মোঃ.হাসনাইন আহমেদ প্রবাদ আছে ‘ধান সুপারি ইলিশের গোলা, এই তিনে ভোলা’। দেশের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, সুপারি, আর ইলিশে স্বয়ংসম্পন্ন। তবে ধান আর ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলেও সুপারির বিষয়ে তদারকি নেই কারোই। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন সুপারি চাষীরা। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার […]

২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনেও নেই কৃষি বিভাগে তদারকি, সরকারের সহযোগীতা চান চাষীরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৯

মোঃ.হাসনাইন আহমেদ

প্রবাদ আছে ‘ধান সুপারি ইলিশের গোলা, এই তিনে ভোলা’। দেশের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, সুপারি, আর ইলিশে স্বয়ংসম্পন্ন। তবে ধান আর ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলেও সুপারির বিষয়ে তদারকি নেই কারোই। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন সুপারি চাষীরা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯৬ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পাকা সুপারি উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। হেক্টর প্রতি কাঁচা ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন সুপারির ফলন হয়েছে। শুকনোর পর যা হেক্টর প্রতি ৫ মেট্রিক টন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

তবে চাষীরা বলছেন, চাষীদের একক প্রচেষ্টায় সুপারি শত বছর ধরে কৃষি পন্য ও দেশের অর্থনীতিতে ব্যপক ভুমিকা রাখছে। বছরে কোটি কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হলেও সরকার বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের নেই কোন তদারকি বা উদ্যেগ। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন তারা। চাষীরা নিজ উদ্যেগে সুপারিকে আজ অন্যতম বানিজ্যিক ফসলে পরিনত করেছে।

তাদের অভিযোগ, জেলার অন্যতম অর্থকরী এ ফসলে প্রচার ও প্রসারে কৃষি বিভাগের নেই কার্যক্রম। শুধু কাগজ কলমে হিসাব রাখার মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ। কৃষি বিভাগের কোনো প্রকল্প বা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির নির্দেশনা না থাকায় কৃষকেরা

এখনও সেই পুরনো ধাঁচে সুপারি চাষ করছেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগতমান ও বিপণনে রয়েছে নানা সমস্যা। এই খাত উন্নয়নের জন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।

চাষীদের তথ্যমতে, ভোলায় ‘গা’ ও ‘ভি’ হিসেবে সুপারি কেনাবেচা চলছে। ৩২০ পিছ সুপারিকে বলা হয় এক ‘ভি’ এবং ১০ পিচ সুপারিকে বলা হয় ১ গা। একেকটি গাছ থেকে দুই থেকে তিন ভি সুপারি পাওয়া যায়। এবছর প্রতি ভি সুপারি সাইজ অনুযায়ী ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সুপারি মূলত পানের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এছাড়াও পশুখাদ্য, প্রাকৃতিক রঙ তৈরি ও হস্তশিল্পসহ নানাবিধ কাজে ব্যবহার হয়। স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় ভোলার সুপারির কদর রয়েছে সারা দেশেই।

অন্য কৃষি ফসলের তুলনায় সুপারি অনেক লাভজনক। যেখানে ধান বা সবজি বছরে শতাংশ প্রতি এক থেকে দেড়হাজার টাকার ফসল পাওয়া যায়। সেখানে সুপারি পাওয়া যায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। একেকটি গাছ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ বছর পযর্ন্ত ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও সুপারি গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশ রক্ষায় ভুমিকা পালন করে।

ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার কয়েকটি সুপারি বাগান ঘুরে দেখা যায়, সুপারি চাষীদের ভরা মৌসুম চলছে। তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি বাগানে যেন এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দিনেও রাতে সুপারি বাগানগুলো জাকজমক হয়ে উঠেছে।

গাছ থেকে সুপারি পারতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। তারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে গিয়ে সুপারি পারছেন। ভোলার প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা মিলছে সুপারি আর সুপারি। এ যেন জেলা জুড়ে নবান্ন উৎসবের মত ভিন্ন আমেজ কাজ কাজ করছে।

শ্রমিকরা পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিটি গাছ থেকে সুপারি পেড়ে একেক ছরা সুপারির জন্য ৭ টাকা করে নেন। এতে তারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা খুব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, এক গাছ থেকে লাফিয়ে অন্য গাছে উঠে নামিয়ে আনেন সুপারির ছরা।

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ির জাকির হাওলাদার বলেন, আমার দেড় একর জমিতে ১৫০০ সুপারি গাছ রয়েছে। এ বছর গাছের পাতা লাল হয়ে শতাধিক গাছ মারা গেছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা না পাওয়ায় আমরা গাছের সঠিক যত্ন করতে পারছি না। ফলে আমাদের ফলন কম বেশি বোঝার উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর তাদের এই বাড়িতেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সুপারি উৎপাদন হয়। কিন্তু তাতেও কৃষি অফিস থেকে নূন্যতম সারা পাওয়া যায় না। কয়েকবার কৃষি অফিসে গেলেও কর্মকর্তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না। সুপারি খাতের প্রতি সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

দৌলতখান উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

‘আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতায় সুপারি চাষ করি। কিন্তু কীভাবে ফলন বাড়ানো যায় বা রোগবালাই প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে কেউ আসেন না। সরকারের সহায়তা পেলে আমরা আরও ভালোভাবে উৎপাদন করতে পারতাম।’

কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোলার জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণ সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনা পেলে এ খাত থেকে জেলার অর্থনীতিতে আরও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যোগ হতে পারে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, ভোলার সুপারির বেশ সুনাম রয়েছে। স্বাদ ও মানে ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। সুপারি উৎপাদনে ভোলার অর্থনীতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখলেও সরকারিভাবে এর জন্য সহায়তা বরাদ্দ নেই। তবে সুপারি চাষীরা যদি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে কৃষি বিভাগ। এছাড়াও সুপারি চাষীদের যেকোন পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ছয় কোটি ৪২ লাখ সুপারি গাছ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি এর সংখ্যা আরও বেশি অনেক বেশি।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।