হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আলেম–ওলামাদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে সামনে আসতে হবে। তাঁর মতে,
“যতদিন আলেম-ওলামারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত হবেন না ততদিন দেশে শান্তি-সুখ আসতে পারে না।” সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে ওলামাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেন।
ড. খালিদ বলেন, জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আলেমদের জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে, তাদের খোঁজখবর নিতে হবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারের বিষয়েও ওলামাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
নিজেকে শুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মানুষ নিজের ভুল দেখতে চায় না, কিন্তু অন্যের ভুল খুঁজে বেড়ায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যদি কাউকে সম্মান করি, তাহলে আমিও তার কাছ থেকে সম্মান পাবো। আর আমি যদি কাউকে বেইজ্জতি করি, তাহলে আল্লাহ আমাকে বেইজ্জত করে দিবেন।” তাই সবার প্রতি বিনয়ী থাকার ওপর জোর দেন তিনি।
জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. খালিদ বলেন, ক্ষমতা, ধন–দৌলত কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। তিনি বলেন, দেশে একসময় যাদের নির্দেশে মানুষের ফাঁসি হয়েছে, আজ অন্যদের নির্দেশে তাদের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে। তাই আল্লাহকে স্মরণে রেখে ঈমানি দৃঢ়তা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
উস্তাদদের সম্মান ও খেদমতের গুরুত্বও তুলে ধরেন ধর্ম উপদেষ্টা। তাঁর মতে, ওলামায়ে কেরামের ঘনিষ্ঠতায় মানুষের জীবন আলোকিত হয়, উত্তম চরিত্র গড়ে ওঠে। আলেম–ওলামাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ও তাদের কাছ থেকে দোয়া নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহসহ শীর্ষ আলেম–ওলামারা। দু’দিনব্যাপী এ সমাবেশে ১৪৪৫–৪৬ হিজরি শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করা প্রায় তিন হাজার আলেমকে সম্মানসূচক দস্তার পরানো হবে।