সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৫তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বৈশ্বিক জোটের দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম অধিকারের উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিকদের মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন সংস্কার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ড সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি সংশোধিত শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ জনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের শর্ত শিথিলকরণ এবং কালো তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধ করার মতো উল্লেখযোগ্য সংশোধনী যুক্ত হয়েছে।
কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, হয়রানি এবং শিশু শ্রম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণের সময়সীমাও পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছরে নিয়ে আসা হয়েছে।
ড. সাখাওয়াত হোসেন আরো জানান, বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলওর কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ অনুসমর্থন করেছে, যার মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সব মৌলিক কনভেনশন সমর্থনের তালিকায় যুক্ত হলো। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত এক বছরে শ্রমিক নেতা ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সভায় উপদেষ্টা পাকিস্তানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও করেন। বৈঠকে দক্ষতা উন্নয়নসহ শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।