বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন: জনগণ, কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে বিনষ্ট করা যাবে না। আজ, শনিবার সকালে, বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকীতে, বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ভাষণে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা “আহলে বাইতের চিন্তাধারার অসাধারণ […]

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

এডিটর

২৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৪

সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন: জনগণ, কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে বিনষ্ট করা যাবে না।

আজ, শনিবার সকালে, বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকীতে, বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ভাষণে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা “আহলে বাইতের চিন্তাধারার অসাধারণ প্রসার” এবং “আশুরার শিক্ষার বিস্তার ও মুসলিম বিশ্বে ইমাম হোসাইনের অভ্যুত্থানের দর্শন”কে অষ্টম ইমামের খোরাসান সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বর্তমানে চলমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইরানের শত্রুরা আমাদের জনগণ, কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সুদৃঢ় ঐক্য এবং সামরিক শক্তি ও পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা দেখে বুঝতে পেরেছে যে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতি এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে নতজানু করা যাবে না। তাই, তারা এখন ইরানের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে সরকারকে নতজানু করার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদেরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে “জাতির পবিত্রতা ও মহান ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে এবং শক্তিশালী করতে হবে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার ভাষণের প্রথম অংশে, অষ্টম ইমামকে সমগ্র মানবতার জন্য, বিশেষ করে ইরানিদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ইমাম রেজার খোরাসানে আগমণের অসামান্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: শহীদদের নেতা ইমাম হোসেন (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম রেজার এই অঞ্চলে আগমণের ফলে দীর্ঘকাল ধরে বিচ্ছিন্ন ও নির্যাতিত আহলে বাইতের অনুসারীরা বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং শিয়ারা তথা আহলে বাইতের অনুসারীরা এমনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যা ইতিহাসে শিয়া চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ করতে এবং প্রতিদিন আহলে বাইত ও তাদের অনুসারীদের প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অষ্টম ইমামের খোরাসান সফরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে আশুরার চেতনা আরো শক্তিশালী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন: আশুরা বিপ্লবের প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার এবং মুসলিম সমাজে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের মেনে না নেয়ার আহ্বান জানান। এভাবে তিনি জনগণের মধ্যে ইসলামের অনেক সামাজিক শিক্ষার ব্যাখ্যা এবং প্রচারের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বক্তৃতায়, সম্প্রতি ইসরায়েলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে ইরানি জাতির পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তাকে আমাদের দ্বিগুণ মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে উল্লেখ করে প্রশ্ন করেছেন: গত ৪৫ বছর ধরে ইরানের প্রতি আমেরিকার সব সরকারের শত্রুতার কারণ আসলে কী?

আপাতদৃষ্টিতে সহজ কিন্তু জটিল এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন: অতীতে, আমেরিকানরা সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নারী প্রভৃতি বিষয়কে অজুহাত করে তারা শত্রুতার আসল কারণ লুকিয়ে রেখেছিল, অথবা তারা খুব বেশি হলে ভদ্রভাবে এটা বলতো যে তারা ইরানের আচরণ পরিবর্তন করতে চায়, কিন্তু আজ আমেরিকার ক্ষমতায় থাকা এই ব্যক্তি ইরানের প্রতি শত্রুতার আসল কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন এবং বলেছেন, “আমরা চাই ইরান আমাদের কথা শুনুক। অর্থাৎ আমরা আসলে চাই ইরানি জাতি এবং ইসলামী সরকার আমাদের নির্দেশ মেনে চলুক।

মার্কিন সরকারের এই অশুভ লক্ষ্য গভীরভাবে বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন: তারা চায় ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইরানের মতো একটি মর্যাদাবান ও গর্বিত জাতি আমেরিকার আদেশ মেনে চলুক।

যারা বলে যে মার্কিন সরকারের ক্রোধ এবং শত্রুতার কারণ ইরানি জাতির (আমেরিকা বিরোধী) স্লোগান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাদেরকে অতি সরলমনা বলে অভিহিত করে আরও বলেছেন: যারা বলে, “কেন তোমরা আমেরিকার সাথে সরাসরি আলোচনা করো না এবং সমস্যার সমাধান করো না?” তারা আসলে খুবই সরল মানুষ, কারণ সাদা চোখে আমরা যা দেখি তার বাইরে অন্য কারণ রয়েছে এবং যেসব বিষয় নিয়ে এতো শত্রুতা তা সমাধানযোগ্য নয়।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইরানি জাতিকে নতজানু হয়ে আমেরিকার কথা মেনে চলার দাবিকে ইরানিদের জন্য অপমানজনক বলে অভিহিত করে বলেছেন: ইরানি জাতি এই ধরণের কুৎসিত ও অপমানজনক দাবিতে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং এর বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধের আসল কারণকে আমেরিকার ওই প্রত্যাশা বা দাবি আদায়ের চেষ্টা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন: তারা ইরানকে ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে উস্কে দিয়েছে এবং সর্বাত্মক সাহায্য করেছে। কিন্তু তারা কল্পনাও করেনি যে ইরানি জাতি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং এমন আঘাত হানবে যে তারা অনুতপ্ত হবে।

যুদ্ধ শুরুর একদিন পর, ইরানের ইসলামি সরকার উৎখাত হওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইউরোপে বেশ কয়েকজন আমেরিকান ভাড়াটে এজেন্টের সমবেত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপ্লবের নেতা বলেন: তারা তাদের বোকামি ও হাস্যকর লক্ষ্য অর্জনে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে আক্রমণ শুরুর একদিন পরেই তারা ইরানে নতুন সরকার গঠনের জন্য সভা করে একজন রাজা নিযুক্ত করে।

ওই বোকাদের মধ্যে একজন ইরানীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: ‘লজ্জা হওয়া উচিত সেই ইরানীর যে তার দেশের বিরুদ্ধে এবং ইহুদিবাদ এবং আমেরিকার পক্ষে কাজ করে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জনগণ এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করাকে আমাদের শত্রু এবং তাদের অনুচরদের আরেকটি ভ্রান্ত ধারণা হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন: সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থেকে জনগণ শত্রুর মুখে চপেটাঘাত করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন শত্রুদের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন: “আমরা এবং সমগ্র ইরানি জাতি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ এবং ইরান, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।”

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ইরানকে নতজানু করতে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে বলেন: “এই শত্রুতা সত্ত্বেও, গত ৪৫ বছরে ইসলামী ইরান দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং শত্রুরা ইরানকে সামরিক উপায়ে কাবু করতে পারবে না জেনে এখন ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, আজ আল্লাহর রহমতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রে মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, তারা ইসলামি সরকার ব্যবস্থা ও দেশকে রক্ষা করার এবং শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ। তিনি জাতীয় ঐক্য রক্ষা করাকে একটি সার্বজনীন কর্তব্য বলে উল্লেখ করেন।

বিপ্লবের নেতা ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন: আজ, এমনকি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা সরকারগুলো, যারা সবসময় ইসরায়েলকে সমর্থন করে আসছে, তারাও ইসরায়েলকে নিন্দা করছে; যদিও এই নিন্দাজ্ঞাপন লোক দেখানো এবং অর্থহীন।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি নেতাদের বর্তমান অপরাধী কর্মকাণ্ড যেমন অনাহারে ও তৃষ্ণার্ত রেখে শিশুদের হত্যা করা এবং খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা যা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন আমাদের অবশ্যই এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে; অবশ্য, মুখে নিন্দা জানিয়ে কোনও লাভ নেই বরং, ইয়েমেনের সাহসী জনগণের মতো আমাদের অবশ্যই ইসরায়েলে সব দিক থেকে সাহায্য আসার পথ বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিশেষে, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এই বিষয়ে যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সহায়তায় ইরানী জাতি এবং বিশ্বের সমস্ত ন্যায়পরায় শক্তি , এই অঞ্চল থেকে ইসরায়েল নামক মারাত্মক ক্যান্সারকে উৎপাটন করবে এবং মুসলিম জাতিগুলো জাগ্রত ও ঐক্যবদ্ধ হবে।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪