বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন: জনগণ, কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে বিনষ্ট করা যাবে না। আজ, শনিবার সকালে, বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকীতে, বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ভাষণে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা “আহলে বাইতের চিন্তাধারার অসাধারণ […]

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

এডিটর

২৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৪

সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন: জনগণ, কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে বিনষ্ট করা যাবে না।

আজ, শনিবার সকালে, বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকীতে, বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ভাষণে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা “আহলে বাইতের চিন্তাধারার অসাধারণ প্রসার” এবং “আশুরার শিক্ষার বিস্তার ও মুসলিম বিশ্বে ইমাম হোসাইনের অভ্যুত্থানের দর্শন”কে অষ্টম ইমামের খোরাসান সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বর্তমানে চলমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইরানের শত্রুরা আমাদের জনগণ, কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সুদৃঢ় ঐক্য এবং সামরিক শক্তি ও পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা দেখে বুঝতে পেরেছে যে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতি এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে নতজানু করা যাবে না। তাই, তারা এখন ইরানের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে সরকারকে নতজানু করার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদেরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে “জাতির পবিত্রতা ও মহান ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে এবং শক্তিশালী করতে হবে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার ভাষণের প্রথম অংশে, অষ্টম ইমামকে সমগ্র মানবতার জন্য, বিশেষ করে ইরানিদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ইমাম রেজার খোরাসানে আগমণের অসামান্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: শহীদদের নেতা ইমাম হোসেন (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম রেজার এই অঞ্চলে আগমণের ফলে দীর্ঘকাল ধরে বিচ্ছিন্ন ও নির্যাতিত আহলে বাইতের অনুসারীরা বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং শিয়ারা তথা আহলে বাইতের অনুসারীরা এমনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যা ইতিহাসে শিয়া চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ করতে এবং প্রতিদিন আহলে বাইত ও তাদের অনুসারীদের প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অষ্টম ইমামের খোরাসান সফরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে আশুরার চেতনা আরো শক্তিশালী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন: আশুরা বিপ্লবের প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার এবং মুসলিম সমাজে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের মেনে না নেয়ার আহ্বান জানান। এভাবে তিনি জনগণের মধ্যে ইসলামের অনেক সামাজিক শিক্ষার ব্যাখ্যা এবং প্রচারের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বক্তৃতায়, সম্প্রতি ইসরায়েলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে ইরানি জাতির পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তাকে আমাদের দ্বিগুণ মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে উল্লেখ করে প্রশ্ন করেছেন: গত ৪৫ বছর ধরে ইরানের প্রতি আমেরিকার সব সরকারের শত্রুতার কারণ আসলে কী?

আপাতদৃষ্টিতে সহজ কিন্তু জটিল এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন: অতীতে, আমেরিকানরা সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নারী প্রভৃতি বিষয়কে অজুহাত করে তারা শত্রুতার আসল কারণ লুকিয়ে রেখেছিল, অথবা তারা খুব বেশি হলে ভদ্রভাবে এটা বলতো যে তারা ইরানের আচরণ পরিবর্তন করতে চায়, কিন্তু আজ আমেরিকার ক্ষমতায় থাকা এই ব্যক্তি ইরানের প্রতি শত্রুতার আসল কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন এবং বলেছেন, “আমরা চাই ইরান আমাদের কথা শুনুক। অর্থাৎ আমরা আসলে চাই ইরানি জাতি এবং ইসলামী সরকার আমাদের নির্দেশ মেনে চলুক।

মার্কিন সরকারের এই অশুভ লক্ষ্য গভীরভাবে বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন: তারা চায় ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইরানের মতো একটি মর্যাদাবান ও গর্বিত জাতি আমেরিকার আদেশ মেনে চলুক।

যারা বলে যে মার্কিন সরকারের ক্রোধ এবং শত্রুতার কারণ ইরানি জাতির (আমেরিকা বিরোধী) স্লোগান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাদেরকে অতি সরলমনা বলে অভিহিত করে আরও বলেছেন: যারা বলে, “কেন তোমরা আমেরিকার সাথে সরাসরি আলোচনা করো না এবং সমস্যার সমাধান করো না?” তারা আসলে খুবই সরল মানুষ, কারণ সাদা চোখে আমরা যা দেখি তার বাইরে অন্য কারণ রয়েছে এবং যেসব বিষয় নিয়ে এতো শত্রুতা তা সমাধানযোগ্য নয়।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইরানি জাতিকে নতজানু হয়ে আমেরিকার কথা মেনে চলার দাবিকে ইরানিদের জন্য অপমানজনক বলে অভিহিত করে বলেছেন: ইরানি জাতি এই ধরণের কুৎসিত ও অপমানজনক দাবিতে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং এর বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধের আসল কারণকে আমেরিকার ওই প্রত্যাশা বা দাবি আদায়ের চেষ্টা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন: তারা ইরানকে ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে উস্কে দিয়েছে এবং সর্বাত্মক সাহায্য করেছে। কিন্তু তারা কল্পনাও করেনি যে ইরানি জাতি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং এমন আঘাত হানবে যে তারা অনুতপ্ত হবে।

যুদ্ধ শুরুর একদিন পর, ইরানের ইসলামি সরকার উৎখাত হওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইউরোপে বেশ কয়েকজন আমেরিকান ভাড়াটে এজেন্টের সমবেত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপ্লবের নেতা বলেন: তারা তাদের বোকামি ও হাস্যকর লক্ষ্য অর্জনে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে আক্রমণ শুরুর একদিন পরেই তারা ইরানে নতুন সরকার গঠনের জন্য সভা করে একজন রাজা নিযুক্ত করে।

ওই বোকাদের মধ্যে একজন ইরানীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: ‘লজ্জা হওয়া উচিত সেই ইরানীর যে তার দেশের বিরুদ্ধে এবং ইহুদিবাদ এবং আমেরিকার পক্ষে কাজ করে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জনগণ এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করাকে আমাদের শত্রু এবং তাদের অনুচরদের আরেকটি ভ্রান্ত ধারণা হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন: সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থেকে জনগণ শত্রুর মুখে চপেটাঘাত করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন শত্রুদের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন: “আমরা এবং সমগ্র ইরানি জাতি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ এবং ইরান, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।”

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ইরানকে নতজানু করতে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে বলেন: “এই শত্রুতা সত্ত্বেও, গত ৪৫ বছরে ইসলামী ইরান দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং শত্রুরা ইরানকে সামরিক উপায়ে কাবু করতে পারবে না জেনে এখন ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, আজ আল্লাহর রহমতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রে মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, তারা ইসলামি সরকার ব্যবস্থা ও দেশকে রক্ষা করার এবং শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ। তিনি জাতীয় ঐক্য রক্ষা করাকে একটি সার্বজনীন কর্তব্য বলে উল্লেখ করেন।

বিপ্লবের নেতা ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন: আজ, এমনকি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা সরকারগুলো, যারা সবসময় ইসরায়েলকে সমর্থন করে আসছে, তারাও ইসরায়েলকে নিন্দা করছে; যদিও এই নিন্দাজ্ঞাপন লোক দেখানো এবং অর্থহীন।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি নেতাদের বর্তমান অপরাধী কর্মকাণ্ড যেমন অনাহারে ও তৃষ্ণার্ত রেখে শিশুদের হত্যা করা এবং খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা যা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন আমাদের অবশ্যই এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে; অবশ্য, মুখে নিন্দা জানিয়ে কোনও লাভ নেই বরং, ইয়েমেনের সাহসী জনগণের মতো আমাদের অবশ্যই ইসরায়েলে সব দিক থেকে সাহায্য আসার পথ বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিশেষে, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এই বিষয়ে যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সহায়তায় ইরানী জাতি এবং বিশ্বের সমস্ত ন্যায়পরায় শক্তি , এই অঞ্চল থেকে ইসরায়েল নামক মারাত্মক ক্যান্সারকে উৎপাটন করবে এবং মুসলিম জাতিগুলো জাগ্রত ও ঐক্যবদ্ধ হবে।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৫৪

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৫৪

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৫৪

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৫৪