সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশালে সিআইডির বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, বহুল আলোচিত জুলাই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এর আগে ১৭ আগস্ট তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়েছিল জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ)। সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করা হয়, আফ্রিদি শুধু বর্তমান সরকারের সময়কালে নয়, বরং ১৫ আগস্টের আওয়ামী লীগ ক্যাম্পেইনেও অর্থ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
রোববার জেআরএ তাদের নতুন পোস্টে লিখে,
“স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহোদয় এবং ডিএমপি কমিশনার মহোদয়, জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পুনাব) এবং জুলাই ঐক্যসহ অন্যান্য জুলাই সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আফ্রিদিকে গ্রেফতারের জন্য আর মাত্র ২৬ ঘণ্টা বাকি। আফ্রিদি বাংলাদেশেই আছে। এই ছবিটি গতকালের। কোনো নাটক চলবে না, সোজাসাপ্টা গ্রেফতার করতে হবে।”
জেআরএ-এর এ হুমকির পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আফ্রিদির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অর্থায়ন, অপতৎপরতায় সম্পৃক্ততা এবং জুলাই আন্দোলনের সময়কার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে— তৌহিদ আফ্রিদির মতো আলোচিত এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর কীভাবে সরাসরি রাজনীতির অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হলেন? সরকারবিরোধী আন্দোলনে অর্থের উৎস খুঁজতে গিয়ে বারবার উঠে আসছে এই নাম। এ ঘটনায় তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ বিভ্রান্ত হয়েছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে আফ্রিদিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।