সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের তিস্তা নদীতে অল্প বৃষ্টিতেই বারবার বন্যার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন উজানের ঢল ও নদীর নাব্যতা হ্রাসকে। ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল থেকে নেমে আসা ঢল তিস্তা নদীতে প্রবল পানির চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
তিস্তার তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর গভীরতা কমে গেছে। পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই নদীর পানি উপচে পড়ে তীরবর্তী এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে নিম্নাঞ্চলীয় ভূপ্রকৃতি পানির নিষ্কাশন ব্যাহত করে, যা বন্যার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া, অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতও পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। অপর্যাপ্ত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ৫ ও ৯ আগস্ট তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়। ১২ আগস্টও বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে পানি ছিল। কয়েকদিন পরপর এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন। এর ফলে ফসলি জমি, বসতভিটা ও মানুষের সহায়-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী সমাধান না হলে এই পুনরাবৃত্ত বন্যা তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে।