সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল কলেজের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি: ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনে রেখেছে গৌরবময় ভূমিকা। আন্দোলনে এই কলেজের চার শিক্ষার্থী শহীদ হোন। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ […]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল কলেজের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৪৯

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি:

২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনে রেখেছে গৌরবময় ভূমিকা। আন্দোলনে এই কলেজের চার শিক্ষার্থী শহীদ হোন।

বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

ইট, লাঠি, যা পেয়েছি তা দিয়েই প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত এই ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান, যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলে।

বিপ্লবের সূচনা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। পর্যায়ক্রমে এটি রূপ লাভ করে এক দফা দাবিতে। অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন , ১৯ জুলাই, ২০২৪ সারা দেশে শেখ হাসিনা সরকার কারফিউ জারি করে। আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল প্রেসক্লাবে। আমি বাসা থেকে বের হয়ে জুমার নামাজ আদায় করে প্রেসক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। রিকশায় করে লক্ষীবাজার পৌঁছে দেখি, এখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ চলছে।

তাই সেদিন প্রেসক্লাবে না গিয়ে আমিও লক্ষীবাজার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিই। আমরা সব মিলিয়ে ৩০/৪০ জন আন্দোলনকারী এখানে ছিলাম।পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে ছিল শত শত উৎসুক জনতা। পুলিশ ও ছাত্রলীগ আমাদের কবি নজরুল সরকারি কলেজের সামনে থেকে ধাওয়া দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত নিয়ে যায়। আমরা আবার পাল্টা ধাওয়া দিয়ে তাদের ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত নিয়ে যাই।

এভাবেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য সংঘর্ষ চলতে থাকে। এরপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ একযোগে আমাদের ওপর টিয়ারশেল, রাবার বুলেট এবং গুলি চালায়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন বিকেলের দিকে পাতলাখান লেনের সামনে রাস্তায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্র ইকরাম হোসেন কাউসার শহীদ হন। গুলিটি তার মাথায় লাগতেই মগজ বের হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সেদিন কলেজের একে একে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুপুর থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছি।

সেদিন আমার সঙ্গে ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহমদ উল্লাহ, রুহুল আমিন, নোমান, স্বপনীল, আবির, শাওন বিশ্বাস রিপনসহ আরও অনেক সাহসী সহযোদ্ধা। আবির সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়, বহু আন্দোলনকারী আহত হন। আমরা ইট, লাঠি, যা কিছু পেয়েছি তা দিয়েই প্রতিহত করার চেষ্টা করি।

মৃত্যুর মুখ থেকে একটুর জন্য বেঁচে ফিরি। সকলের সম্মিলিত লড়াই,সংগ্রাম আর হাজারো বীর শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। সকল বীর সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

কোর্টের ভিতর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাসিব বিন হাসান বলেন, আমাদের ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় ভাবেই আমাদের নির্দেশনা দিয়ে দেয় এই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

১৪ জুলাই কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় বসি যেখানে কেন্দ্রীয় মেহমান ছিল। এখান থেকে সিদ্ধান্ত হয় আমাদেরকে সমস্ত আন্দোলনে বিশেষ করে কোটা আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করতেই হবে। ১৫ তারিখ হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত আসলো আমাদের শহীদুল্লাহ হলে যেতেই হবে ।

তখন আমাদের কবি নজরুল কলেজের যে জনশক্তি আছে তাদের নিয়ে তাৎক্ষণিক চলে যায়। আমাদের সভাপতি বায়জিদ মাহমুদ ভাই স্ট্যাম্প নিয়ে পরে চলে আসে এবং ওখানে কিছু সময় দাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছিল বাংলাদেশের সমস্ত পেশাজীবী, শ্রমজীবী বিশেষ করে ছাত্রজনতাকে আন্দোলনে স্পিড জাগানোর একটা অন্যতম দিন। সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শাপলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আমরা ভিক্টোরিয়া পার্কে যাই। সেখানে ছাত্রলীগ আমাদের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুল বান্না জিসানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তৎকালীন জগন্নাথ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ধাওয়া দিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, এরপর আমরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে রওনা দিই। তখন হঠাৎ কোর্টের ভিতর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আমার সামনে দুজন ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর আমার বাম হাতে গুলি লাগে। সভাপতি বায়জিদ মাহমুদ ভাই ও বন্ধু নাঈম আমাকে দয়াগঞ্জে নিয়ে যান, সেখানে অপারেশনের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়।

ঢাকায় কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, বাধ্য হয়ে আমাকে গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। কিন্তু সেখানেও বাড়িতে থাকতে পারিনি থাকতে হয়েছে পাশের বাড়ি এবং পাশের এলাকায়। শেষ পর্যন্ত ওই এলাকাও ছাড়তে হয়েছে, আশ্রয় নিতে হয়েছে এক আত্মীয়র বাসায়।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনে যাওয়ার পথে তুলে নেয় ছাত্র অধিকারের নেতাকে :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, স্বাধীনতার পরও এ দেশের মানুষ বৈষম্য থেকে মুক্তি পায়নি। কোটা প্রথা নামক বৈষম্য ছাত্রসমাজের বুকের উপর চেপে বসে ছিল। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নুর, রাশেদ, হাসান আল মামুন ও ফারুকের নেতৃত্বে ছাত্ররা রাজপথে নেমে কোটা প্রথা বিলুপ্ত করে।

কিন্তু ২০২৪ সালে এসে আবার কোটা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা আবারও রাস্তায় নামে আসে। ৩৬ দিনের এ আন্দোলনে আমিও ধারাবাহিকভাবে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিই। আমি নারায়ণগঞ্জে থাকি তাই সেখানে আন্দোলনকে কিভাবে বেগবান করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করি। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করি।

তিনি বলেন, ১২ জুলাই শাহবাগে আন্দোলনে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় অচেনা অজানা জায়গায়। সেখানে ১২ ঘণ্টা ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়, লাঠি ও লাথি দিয়ে মারধর করে এবং গালিগালাজ করে।

একপর্যায়ে নানা অঙ্গীকার নিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে কয়েকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হই। ১৪ জুলাই অসুস্থ শরীর নিয়েই নারায়ণগঞ্জে প্রথম মিছিল করি এবং শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে কোটার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। সেদিন রাতেই সবাই রাজপথে নেমে স্লোগান দেয় তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার।

তিনি আরও বলেন , দেশের এরকম পরিস্থিতির মধ্যে আমার ছোট বোনকে হল থেকে একটি মেসে উঠাইতে যাই জীবন মৃত্যু হাতে নিয়ে। সে সময়ের কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে উঠে। ৪ তারিখের মহাসমাবেশ থেকে বলা হয় পরশু নয় আগামীকালই লংমার্চ টু ঢাকা। এই গণঅভ্যুত্থান সফল করার লক্ষ্যে আমরা যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান করি। ৫ তারিখের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটে।

বন্ধুর মৃতদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পুলিশের গুলির মুখে জীবনবাজি রাখে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতা :

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি দেওয়ান মুহাম্মদ তাজিম বলেন, কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কলেজস্থ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। পুলিশ ও ছাত্রলীগের ভয় উপেক্ষা করে তারা ঝুঁকি নিয়ে মিছিলের আয়োজন করে এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বীরদর্পে রাজপথে অবস্থান নেয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, কবি নজরুল কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের এই সাহসী ভূমিকার মূল প্রেরণা ছিলেন দেশের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক রাহাবার পীর সাহেব চরমোনাই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। তার নির্দেশেই শুরু থেকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শাহবাগে কোটা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পুরো আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, তখন আমি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। ক্যাম্পাস থেকে বাসা দূরে হওয়ায় নিজ এলাকা সাইনবোর্ড-যাত্রাবাড়ি থেকে কবি নজরুল কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলনে অংশ নিই। কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়। শুরু থেকেই পীর সাহেব চরমোনাই ছাত্রদের পাশে ছিলেন।

পরে আন্দোলন যখন পুলিশি দমন-পীড়নের কারণে সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়, তখনও তার নির্দেশে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাই। ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে একত্রিত হয়ে আমি ঢাবির মলচত্বরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সাথে মুখোমুখি লড়াই করেছি। সেদিন মলচত্বরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের রক্তের প্রয়োজন পড়লে দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতা আল আমিন বাবুল ভাইয়ের সাথে ছুটে যাই ঢাকা মেডিকেলে রক্ত দিতে।

তিনি আরও বলেন, কলেজ শাখার তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক, মোস্তফা কামাল এই আন্দোলনে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হয়। তিনি তার বিভাগের বন্ধুদের নেতৃত্ব দিয়ে একত্রে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজপথে থাকাকালেই তার ঘনিষ্ট বন্ধু ওমর ফারুক পুলিশের গুলিতে মারা যায়। বন্ধুর মৃতদেহ পরিবারের নিকট পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলির মুখে জীবনবাজি রেখেছে তিনি।

শিক্ষাঙ্গন

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার

শেকৃবি প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

শেকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কৃষিবিদ সানোয়ার আলম সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

যবিপ্রবির প্রথম উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। রবিবার (২৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো: শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা […]

নিউজ ডেস্ক

২৮ জুন ২০২৬, ২২:২০

যবিপ্রবি প্রতিনিধি:

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান।

রবিবার (২৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো: শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসানকে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হল।

যোগদানের তারিখ থেকে তিনি চার বছর মেয়াদে উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রজ্ঞাপনটি আমি হাতে পেয়েছি। আমার এখানে কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ করে আজকে বা কালকের মধ্যে আমি যবিপ্রবিতে জয়েন করবো। 

উল্লেখ্য, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন( আইবিএ) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতা শুরু করেন।