শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল কলেজের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি: ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনে রেখেছে গৌরবময় ভূমিকা। আন্দোলনে এই কলেজের চার শিক্ষার্থী শহীদ হোন। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ […]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল কলেজের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৪৯

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি:

২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনে রেখেছে গৌরবময় ভূমিকা। আন্দোলনে এই কলেজের চার শিক্ষার্থী শহীদ হোন।

বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

ইট, লাঠি, যা পেয়েছি তা দিয়েই প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত এই ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান, যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলে।

বিপ্লবের সূচনা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। পর্যায়ক্রমে এটি রূপ লাভ করে এক দফা দাবিতে। অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন , ১৯ জুলাই, ২০২৪ সারা দেশে শেখ হাসিনা সরকার কারফিউ জারি করে। আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল প্রেসক্লাবে। আমি বাসা থেকে বের হয়ে জুমার নামাজ আদায় করে প্রেসক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। রিকশায় করে লক্ষীবাজার পৌঁছে দেখি, এখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ চলছে।

তাই সেদিন প্রেসক্লাবে না গিয়ে আমিও লক্ষীবাজার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিই। আমরা সব মিলিয়ে ৩০/৪০ জন আন্দোলনকারী এখানে ছিলাম।পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে ছিল শত শত উৎসুক জনতা। পুলিশ ও ছাত্রলীগ আমাদের কবি নজরুল সরকারি কলেজের সামনে থেকে ধাওয়া দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত নিয়ে যায়। আমরা আবার পাল্টা ধাওয়া দিয়ে তাদের ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত নিয়ে যাই।

এভাবেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য সংঘর্ষ চলতে থাকে। এরপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ একযোগে আমাদের ওপর টিয়ারশেল, রাবার বুলেট এবং গুলি চালায়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন বিকেলের দিকে পাতলাখান লেনের সামনে রাস্তায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্র ইকরাম হোসেন কাউসার শহীদ হন। গুলিটি তার মাথায় লাগতেই মগজ বের হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। সেদিন কলেজের একে একে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুপুর থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছি।

সেদিন আমার সঙ্গে ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহমদ উল্লাহ, রুহুল আমিন, নোমান, স্বপনীল, আবির, শাওন বিশ্বাস রিপনসহ আরও অনেক সাহসী সহযোদ্ধা। আবির সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়, বহু আন্দোলনকারী আহত হন। আমরা ইট, লাঠি, যা কিছু পেয়েছি তা দিয়েই প্রতিহত করার চেষ্টা করি।

মৃত্যুর মুখ থেকে একটুর জন্য বেঁচে ফিরি। সকলের সম্মিলিত লড়াই,সংগ্রাম আর হাজারো বীর শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। সকল বীর সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

কোর্টের ভিতর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাসিব বিন হাসান বলেন, আমাদের ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় ভাবেই আমাদের নির্দেশনা দিয়ে দেয় এই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

১৪ জুলাই কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় বসি যেখানে কেন্দ্রীয় মেহমান ছিল। এখান থেকে সিদ্ধান্ত হয় আমাদেরকে সমস্ত আন্দোলনে বিশেষ করে কোটা আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করতেই হবে। ১৫ তারিখ হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত আসলো আমাদের শহীদুল্লাহ হলে যেতেই হবে ।

তখন আমাদের কবি নজরুল কলেজের যে জনশক্তি আছে তাদের নিয়ে তাৎক্ষণিক চলে যায়। আমাদের সভাপতি বায়জিদ মাহমুদ ভাই স্ট্যাম্প নিয়ে পরে চলে আসে এবং ওখানে কিছু সময় দাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছিল বাংলাদেশের সমস্ত পেশাজীবী, শ্রমজীবী বিশেষ করে ছাত্রজনতাকে আন্দোলনে স্পিড জাগানোর একটা অন্যতম দিন। সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শাপলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আমরা ভিক্টোরিয়া পার্কে যাই। সেখানে ছাত্রলীগ আমাদের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুল বান্না জিসানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তৎকালীন জগন্নাথ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ধাওয়া দিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, এরপর আমরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে রওনা দিই। তখন হঠাৎ কোর্টের ভিতর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আমার সামনে দুজন ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর আমার বাম হাতে গুলি লাগে। সভাপতি বায়জিদ মাহমুদ ভাই ও বন্ধু নাঈম আমাকে দয়াগঞ্জে নিয়ে যান, সেখানে অপারেশনের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া হয়।

ঢাকায় কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, বাধ্য হয়ে আমাকে গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। কিন্তু সেখানেও বাড়িতে থাকতে পারিনি থাকতে হয়েছে পাশের বাড়ি এবং পাশের এলাকায়। শেষ পর্যন্ত ওই এলাকাও ছাড়তে হয়েছে, আশ্রয় নিতে হয়েছে এক আত্মীয়র বাসায়।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনে যাওয়ার পথে তুলে নেয় ছাত্র অধিকারের নেতাকে :

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, স্বাধীনতার পরও এ দেশের মানুষ বৈষম্য থেকে মুক্তি পায়নি। কোটা প্রথা নামক বৈষম্য ছাত্রসমাজের বুকের উপর চেপে বসে ছিল। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নুর, রাশেদ, হাসান আল মামুন ও ফারুকের নেতৃত্বে ছাত্ররা রাজপথে নেমে কোটা প্রথা বিলুপ্ত করে।

কিন্তু ২০২৪ সালে এসে আবার কোটা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা আবারও রাস্তায় নামে আসে। ৩৬ দিনের এ আন্দোলনে আমিও ধারাবাহিকভাবে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিই। আমি নারায়ণগঞ্জে থাকি তাই সেখানে আন্দোলনকে কিভাবে বেগবান করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করি। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করি।

তিনি বলেন, ১২ জুলাই শাহবাগে আন্দোলনে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় অচেনা অজানা জায়গায়। সেখানে ১২ ঘণ্টা ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়, লাঠি ও লাথি দিয়ে মারধর করে এবং গালিগালাজ করে।

একপর্যায়ে নানা অঙ্গীকার নিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে কয়েকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হই। ১৪ জুলাই অসুস্থ শরীর নিয়েই নারায়ণগঞ্জে প্রথম মিছিল করি এবং শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে কোটার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। সেদিন রাতেই সবাই রাজপথে নেমে স্লোগান দেয় তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার।

তিনি আরও বলেন , দেশের এরকম পরিস্থিতির মধ্যে আমার ছোট বোনকে হল থেকে একটি মেসে উঠাইতে যাই জীবন মৃত্যু হাতে নিয়ে। সে সময়ের কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে উঠে। ৪ তারিখের মহাসমাবেশ থেকে বলা হয় পরশু নয় আগামীকালই লংমার্চ টু ঢাকা। এই গণঅভ্যুত্থান সফল করার লক্ষ্যে আমরা যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান করি। ৫ তারিখের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটে।

বন্ধুর মৃতদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পুলিশের গুলির মুখে জীবনবাজি রাখে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতা :

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি দেওয়ান মুহাম্মদ তাজিম বলেন, কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কলেজস্থ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। পুলিশ ও ছাত্রলীগের ভয় উপেক্ষা করে তারা ঝুঁকি নিয়ে মিছিলের আয়োজন করে এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বীরদর্পে রাজপথে অবস্থান নেয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, কবি নজরুল কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের এই সাহসী ভূমিকার মূল প্রেরণা ছিলেন দেশের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক রাহাবার পীর সাহেব চরমোনাই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। তার নির্দেশেই শুরু থেকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শাহবাগে কোটা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পুরো আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, তখন আমি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। ক্যাম্পাস থেকে বাসা দূরে হওয়ায় নিজ এলাকা সাইনবোর্ড-যাত্রাবাড়ি থেকে কবি নজরুল কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলনে অংশ নিই। কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়। শুরু থেকেই পীর সাহেব চরমোনাই ছাত্রদের পাশে ছিলেন।

পরে আন্দোলন যখন পুলিশি দমন-পীড়নের কারণে সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়, তখনও তার নির্দেশে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাই। ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে একত্রিত হয়ে আমি ঢাবির মলচত্বরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সাথে মুখোমুখি লড়াই করেছি। সেদিন মলচত্বরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের রক্তের প্রয়োজন পড়লে দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতা আল আমিন বাবুল ভাইয়ের সাথে ছুটে যাই ঢাকা মেডিকেলে রক্ত দিতে।

তিনি আরও বলেন, কলেজ শাখার তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক, মোস্তফা কামাল এই আন্দোলনে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হয়। তিনি তার বিভাগের বন্ধুদের নেতৃত্ব দিয়ে একত্রে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজপথে থাকাকালেই তার ঘনিষ্ট বন্ধু ওমর ফারুক পুলিশের গুলিতে মারা যায়। বন্ধুর মৃতদেহ পরিবারের নিকট পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলির মুখে জীবনবাজি রেখেছে তিনি।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।