রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আমতলী ইউপি চেয়ারম্যানকে তুলে নেয়ার চেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ১০

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ ফিরোজ খাঁন তাপসের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সদস্য জোরপুর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ইউপি সদস্য সোহেল খাঁনসহ ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ জুলাই ২০২৫, ১৮:২৫

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ ফিরোজ খাঁন তাপসের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সদস্য জোরপুর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে ইউপি সদস্য সোহেল খাঁনসহ ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তারা যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন তাপস ও রাসেল আকন নামের দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে রবিবার বেলা ১১ টার দিকে খুরিয়ার খেয়াঘাট আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে গত ১৬ জুন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশে বাঁধা দেয় আমতলী সদর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ফিরোজ খাঁন তাপস।

ওই সময়ে তিনি ( চেয়ারম্যান) আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন ব্যবস্থা নেয়নি এমন অভিযোগ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মিঠা মৃধা।

এ ঘটনার তিন দিন পরে অর্থ্যাৎ ১৯ জুন উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে শ্যামলের চায়ের দোকানে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে পুলিশে দেয়ার হুমকি দিয়ে জোরপুর্বক ২১ দিনের একটি দায়িত্বপত্রে স্বাক্ষর নেই।

গত বৃহস্পতিবার ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁনে ২১ দিনের দায়িত্ব শেষ হয়। রবিবার সকাল ১০ টার দিকে চেয়ারম্যান মিঠু খুরিয়ার খেয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান এবং সেবা কার্যক্রম শুরু করেন।

ওই সময় যুবদল সভাপতি তাপস খাঁনের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে চেয়ারম্যানকে জোরপুর্বক টেনে হেঁচরে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সেবা নিতে আসা অর্ধ-শতাধিক নারী ও পুরুষ মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাকে আটকে রাখে।

এতে আরেক ইউপি সদস্য সোহেল খাঁন প্রতিবাদ করতে তাকে তাপসের লোকজন মারধর করে। ওই সময় তাপসের লোকজন দুইটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায়। এ সময় পরিষদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১০ জন আহত হয়।

এদের মধ্যে সোহেল খাঁন (৩৫), রাহাত মোল্লা (২৫), সজিব (২০), সাব্বির (২২), আল আমিন (২৮) ও কামরুল (৩৫) আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ইউপি সদস্য সোহেল খাঁন ও রাহাত মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছেন। অপর আহতদের আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খবর পেয়ে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওইদিন বিকেলে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান ও সহকারী পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন তাপসের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদল নেতাকর্মী এসে ইউপি চেয়ারম্যানকে পরিষদ থেকে হেনে হেচরে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

এতে বাঁধা দিলে আরেক ইউপি সদস্য সোহেল খাঁনকে তারা মারধর করে। ওই সময় তারা দুইটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা বলেন, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইউপি সদস্য ফিরোজ খাঁন তাপস তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গত ১৯ জুন আমাকে অবরুদ্ধ করে জোরপুর্বক ২১ দিনের একটি দায়িত্বপত্রে স্বাক্ষর নেয়।

রবিবার আমি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে কার্যক্রম শুরু করলে তাপস তার অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে তুলে নিতে চেষ্টা করে। পরে সেবা নিতে আসা নারী ও পুরুষরা মানবঢাল তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেন।

নইলে ওরা আমাকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলতো। তিনি আরো বলেন, এ সময় তাপস ও তার লোকজন দুটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটনায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুনা বিনতে হক বলেন, আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।  

আমতলী থানায় ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, নৌবাহিনীর লোকজন দুইজনকে আটক করেছে। তাদেরকে তারা থানায় সোপর্দ করেছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী) সার্কেল মোঃ তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। ওই স্থানে দুইটি ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান বলেন, নৌবাহিনী দুইজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।