রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ঋণের ফাঁদে মানুষ বলি 

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ  বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শহর – শহরতলীর পাড়া-মহল্লায় ঋণের ফাঁদে বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত সংগঠন ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা অবৈধ হলেও এ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে চলছে অবৈধ ক্লাব, সমিতি কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক চড়া সুদে ঋণ প্রদান কার্যক্রম। এভাবে ঋণ দিয়ে রাতারাতি টাকাওয়ালা বনে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, কিন্তু […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০২৫, ২১:৪৮

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শহর – শহরতলীর পাড়া-মহল্লায় ঋণের ফাঁদে বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত সংগঠন ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা অবৈধ হলেও এ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে চলছে অবৈধ ক্লাব, সমিতি কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক চড়া সুদে ঋণ প্রদান কার্যক্রম।

এভাবে ঋণ দিয়ে রাতারাতি টাকাওয়ালা বনে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, কিন্তু নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দৈনিক সকাল এর অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। 

উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের নয়লাপাড়া গ্রামের অঞ্জলী রানী (৪৫)। শ্রমিকের কাজ করে এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে চলে তাদের সংসার। ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতে গিয়ে একই গ্রামের ভিম বর্মণের ছেলে ছিরেন বর্মণ, ছফেন বর্মণের ছেলে চঞ্চল, কালু বর্মণের ছেলে গৌতম বর্মণ, প্রভাত বর্মণের ছেলে অশোক বর্মণের পরিচালিত সমিতি থেকে দুই বছর আগে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন।

স্বামী-স্ত্রী মিলে মাঠে কাজ করে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও তারা আরও ৫০ হাজার টাকার দাবি করে তাদের নানা রকম হুমকি দিতে থাকেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জুন মাঠ থেকে অঞ্জলী রানীর সাত মাসের গর্ভবতী গাভী নিয়ে যান তারা। গাভীটি আনতে গেলে ৫০ হাজার টাকা ছাড়া গাভী দেবে না বলে জানানো হয়। পরে, বগুড়ার শেরপুর থানা পুলিশের সহায়তায় গাভীটি ফিরে পান অঞ্জলী।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা, চক খাগা, নায়ের খাগা, ভিমজানি, তালপুকুরিয়া, দড়িখাগা, চাঁদপুর, গোপালপুর। সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর, কল্যাণী, চকসাদি, জোড়গাছা, সূত্রাপুর, বেলগাছি, আওলাকান্দি, মধ্যভাগ। মির্জাপুর ইউনিয়নের মদনপুর, কৃষ্ণপুর, কাশিয়াবালা, রাজারদীঘি, দড়িমুকুন্দ, বিরইল, আড়ংশাইল, মাথাইল চাপড়, বীরগ্রাম।

শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের আন্দিকুমড়া, ঘোলাগাড়ি, রহমতপুর, ধরমোকাম, দহপাড়া।

 বিশালপুর ইউনিয়নের নয়লাপাড়া, সিরাজনগর, হাসাগাড়ীসহ অন্যান্য গ্রামেও দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে টাকা দিয়ে ভয় দেখিয়ে চড়া সুদে টাকা আদায় করার কথা জানান এলাকাবাসী। এ ছাড়া শেরপুর পৌর শহরের শিশু পার্ক এলাকার আশপাশে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে একটি সক্রিয় দাদন ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে এই সুদের ব্যবসা মহামারী আকার ধারণ করেছে। কেউ এক মাসের জন্য ১ হাজার টাকা নিলে মাস শেষে তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় যেসব অবৈধ ক্লাব বা সমিতি আছে তারা সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিতেও টাকা দিয়ে থাকে। এসব ঋণে শতকরা সুদের পরিমাণ ধরা হয় ২০ টাকা।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবাইদুল হক দৈনিক সকাল কে বলেন, ‘উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস, উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন অফিস, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে থাকে।

মানুষ এসব সুবিধা গ্রহণ না করে সুদের ব্যবসায়ীদের দারস্থ হয়ে সর্বস্ব হারায়।’ কেউ আর্থিক অনটনে পড়লে সুদের ব্যবসায়ীদের কাছে না গিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শেরপুর উপজেলা স্বার্থরক্ষা পরিষদের সভাপতি কে, এম মাহবুবার রহমান হারেজ দৈনিক সকাল কে বলেন, ‘কোনো এনজিও থেকে ঋণ নিতে গেলে নানা নিয়ম-কানুন আর শর্তের জটিলতায় অনেক সময় লাগে।

যার ফলে বিপদ-আপদ বা আর্থিক প্রয়োজনে মানুষ বাধ্য হয়ে সুদের ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হয়। পাড়া-মহল্লায় সুদের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি গ্রাম-শহরে ক্লাব-সমিতির আড়ালে সুদের ব্যবসা বন্ধে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান দৈনিক সকাল কে বলেন, অবৈধ ক্লাব-সমিতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুদের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।