সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলাধীন নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৬ মাস ধরে জনবল শূন্য থাকায় এলাকাবাসীর চরম দূর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ ৬ মাস ধরেই চিকিৎসকসহ সকল পদের জনবল শূন্য রয়েছে। এরপরও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ফলে প্রতিদিন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অর্ধশত গ্রামের হতদরিদ্র খেটে খাওয়া নারী, পুরুষ, শিশু, গর্ভবতী মহিলাসহ অর্ধলক্ষাধিক মানুষ গেলেও স্বাস্থ্যসেবা না পেয়েই বাড়ি ফিরছেন।
সরেজমিনে এমনি চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও পিছিয়ে রয়েছে নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। গত ছয় মাস ধরে কোন স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না আগতরা।
অথচ এই ইউনিয়ন ভিত্তিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে গিয়ে প্রতিদিন জরুরীভাবে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ওষুধ পেত হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ।
বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে না পেরে প্রতিদিন শত শত মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এসে সুচিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।
এতে করে অসহায় মানুষ গুলো আর্থিক সংকটের মধ্যে কেউ বাজারের ফার্মেসিতে গিয়ে, কেউবা কবিরাজের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে অপচিকিৎসা শিকার হচ্ছে ভোগান্তির স্বীকার মানুষজন।
অথচ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দুটিতে ৬টি পদ রয়েছে। এই পদ গুলোর মধ্যে ১জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার,পরিবার
ও পরিকল্পনা প্রদর্শিকা ১ জন, ফার্মাসিস্ট ১ জন, আয়া ১ জন, এমএলএসএস ১ জন। ৬ টি পদের এর মধ্যে একটি জনবলও না থাকায় শূন্যের কোটায় রয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।
স্থানীয় বাসিন্দা সমাজকর্মী আবিদ রনি জানান, “নরসিংপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ৬ মাস ধরে তালা ঝুলানো অবস্থায় আছে। ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে না কেউ।
সরকার এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি কেন তৈরি করল আর কেনই বা জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে না তা বুজে আসছে না। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই এলাকার মানুষজন এসে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন”৷
সেবাগ্রহীতা হাজেরা বেগম জানান, “শারীরিক সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলাম সকালে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা সেবা পাইনি,
আমি ও আমার সাথে তিনজন গর্বভতী নারী চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছি”।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু সালেহীন খাঁন জানান, নরসিংপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ছয়মাস যাবৎ জনবল শূন্যের কোটায় রয়েছে সত্য। পদ থাকলেও জনবল পাচ্ছি না।
এ বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।