শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আমতলীতে শিক্ষক ও ছাত্রকে মারধর করলেন আ.লীগ নেতা

রাশিমুল হক রিমন, আমতলী প্রতিনিধিঃ শিক্ষক হামিদুর রহমান ও ছাত্র আশিক গাজীকে শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গির হাওলাদার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন ছাত্র রাকিব ও শিক্ষকরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামীলীগ নেতাকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আটক করেছে। রাতভর নাটকীয়তার পর বুধবার বিকেলে পুলিশ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২:৫৪

রাশিমুল হক রিমন, আমতলী প্রতিনিধিঃ

শিক্ষক হামিদুর রহমান ও ছাত্র আশিক গাজীকে শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গির হাওলাদার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন ছাত্র রাকিব ও শিক্ষকরা।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামীলীগ নেতাকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আটক করেছে। রাতভর নাটকীয়তার পর বুধবার বিকেলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার উত্তর সোনাখালী স্কুল এন্ড কলেজে মঙ্গলবার বিকেলে। 

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কমিটির সদস্য মোঃ জাহাঙ্গির হাওলাদারের ভাইয়ের ছেলে মোঃ রাকিব উত্তর সোনাখালী স্কুল এন্ড কলেজে দশম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে।

মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির আগে একই শ্রেনীর ছাত্র রাকিব ও আশিক গাজীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে আওয়ামীলীগ নেতা বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে ঢুকে আশিক গাজীকে মারধর করে। ওই সময় শিক্ষক হামিদুর রহমান প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করেছে।

শিক্ষক ও ছাত্রকে মারধর করে আওয়ামীলীগ নেতা বীর দর্পে বিদ্যালয় থেকে চলে যায়। পরে বিদ্যালয় শিক্ষকরা ছাত্র ও শিক্ষককে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ওই আওয়ামীলীগ নেতাকে আটক করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে আশিকের বাবা বাবুল গাজী থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।

রাতভর নাটকীয়তার পরে বুধবার দুপুরে পুলিশ জাহাঙ্গির হাওলাদারকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ঘটনার বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা আওয়ামীলীগ নেতাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেছেন।

শিক্ষক হামিদুর রহমানের বাড়ী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কালিনগর গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক হামিদুর রহমানকে মামলা না করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।

উল্লেখ গত এক বছর আগে মেহেদী হাসান নামের এক ছাত্রীকে আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গির মারধর করে কচুরীপানার মধ্যে ফেলে রাখে। ওই ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলায় তিনি বেশ কয়েকদিন জেল হাজতে ছিলেন।  

ছাত্র আশিক গাজী বলেন, শ্রেনী কক্ষে পড়া নিয়ে রাকিবের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় রাকিবের চাচা জাহাঙ্গির হাওলাদার এসে শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে। হামিদুর রহমান স্যার এর প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার শাস্তি দাবী করছি।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ফারুক হোসেন মৃধা বলেন, বিদ্যালয় শিক্ষক, ছাত্রকে মারধর করবে তা মেনে নেয়া যায়না। এ ঘটনায় কঠোর শাস্তি দাবী করছি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদুর রহমান বলেন. শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে ছাত্র আশিক গাজীকে আওয়ামীলীগ নেতা মারধর করে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকেও মারধর করেছে। তিনি আরো বলেন, আমার বাড়ী অনেক দুরে।

আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিবেন। এখানে আমার কিছুই করার নেই। আমি এর বাইরে কিছুই বলতে রাজি না। 

আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গির হাওলাদার বলেন, বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। কিভাবে সমাধান হলো এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি? 

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, ছাত্র অপরাধ করলে আমার কাছে বিচার দিতে পারতো কিন্তু আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গির হাওলাদার শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে ছাত্র ও শিক্ষককে মারধর করেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহত শিক্ষককের মাথায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, উভয় পক্ষ আপোষ মিমাংসাপত্র দেওয়ায় জাহাঙ্গির হাওলাদার ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ছাত্র ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।