সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি ঘুষ বাণিজ্যের এজিএম চক্র এখনও সক্রিয়

মেহেরপুর প্রতিনিধি:  নীতিমালার প্যাচে পড়ে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি থেকে ট্রান্সফরমার কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা। কিন্তু ঘূষ দিলেই মিলছে ট্রান্সফরমার। এই রট্রান্সফরমার বাণিজ্য চক্রের সাথে খোদ জেনারেল ম্যানেজার, এজিএম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আর তাদেরকে পেশিশক্তি দিয়ে আশ্রয় দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন একজন ঠিকাদার।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, যখন গ্রাহক পর্যায়ে ট্যান্সফরমারের প্রয়োজন হয় […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ মার্চ ২০২৫, ১৬:১০

মেহেরপুর প্রতিনিধি: 

নীতিমালার প্যাচে পড়ে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি থেকে ট্রান্সফরমার কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা। কিন্তু ঘূষ দিলেই মিলছে ট্রান্সফরমার।

এই রট্রান্সফরমার বাণিজ্য চক্রের সাথে খোদ জেনারেল ম্যানেজার, এজিএম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আর তাদেরকে পেশিশক্তি দিয়ে আশ্রয় দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন একজন ঠিকাদার। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যখন গ্রাহক পর্যায়ে ট্যান্সফরমারের প্রয়োজন হয় তখন স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমে আবেদন করানো হয়। আবেদন দেখে জিএম স্বদেশ কুমারের কাছে ওই গ্রাহককে পাঠিয়ে দেন তার পোষ্য দালালরা।

ট্রান্সফরমার সংকট দেখিয়ে গ্রাহককের পুরো টাকা দিয়ে কিনে নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভীত হয়ে পড়েন গ্রাহক। গ্রাহকদের নানা অনুরোধের পরে জিএম তার নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে।

সেই ব্যক্তিদের সাথে গ্রাহকের আলোচনা হয় এবং ২০—৩০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে সংযোগের জন্য ট্রান্সফরমার পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা।

আর কথিত এই দালালদের সাথে আলোচনায় যদি কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানায় তবে টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনতেও ভোগান্তি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা ঘুষ কিংবা পল্লী বিদ্যুতে অর্থ জমা দিয়ে তাদের খুশি রেখে ট্রান্সফরমার নিয়ে থাকেন।

অভিযোগ রয়েছে, গাংনীর একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সংযোগে লোড বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়। আবেদন পেয়ে সক্রিয় হয়ে উঠে পল্লী বিদ্যুতের দুনীর্তিবাজ চক্রের সদস্যরা।

ট্রান্সফরমার কেনার কথা বলে গ্রাহককে গাংনী জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামানের মাধ্যমে প্রথমে যোগাযোগ হয় এজিএম তিতাস হোসেনের সাথে এবং পরবতীর্তে জিএম স্বদেশ কুমার পর্যন্ত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই তিন জনের সাথে ট্রান্সফরমার জালিয়াত চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। জিএম স্বদেশ কুমারের সব অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন ঠিকাদার মোজাম্মেল।

স্থানীয় পেশিশক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে তিনি ঢাল হিসেবে স্বদেশ কুমারের অপকর্ম আড়াল করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্বদেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলকারীরকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করতে জোরেসোরে কার্যক্রম চালাচ্ছেন মোজাম্মেল হক। 

জানা গেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি, লগো ও স্লোগান সম্বলিত মাসিক বিদ্যুত বিল ৫ আগস্টের পর কয়েকমাস ধরে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করা হয়। এর জন্য জিএম স্বদেশ কুমারের ফ্যাসিবাদী প্রীতিকে দায়ী করেছেন অনেকে।

এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। জিএম ইমেজ সংকটে পড়েন। উঠে আসতে থাকে তার নানা প্রকার দুনীর্তির চিত্র। জিএম এর দুনীর্তি চক্রের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়।

তবে এসব ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন ঠিকাদার মোজাম্মেল হক। তিনি প্রায় সব সময়ই জিএম এর আশেপাশে ঘুরঘুর করেন।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের অঘোষিত ত্রাণকর্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। মোজাম্মেল হকের উপর ভর করেই জিএম পূর্বের মতই ঘুষ বাণিজ্যে আবারও লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করলে মোজাম্মেল হকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। 

অভিযোগ রয়েছে, গাংনীর ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ট্রান্সফরমার কিনে নিতে হবে শুনে গ্রাহক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনে লোড বাড়ানো সম্ভব নয় বলে অপরাগতার কথা জানিয়ে দেন গ্রাহক।

এর এক পর্যায়ে জিএম স্বদেশ কুমার, এজিএম তিতাস হোসেন ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামান চক্র একজন কতিথ দালাল প্রেরণ করেন ওই প্রতিষ্ঠানে। জিএম, এজিএম এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়রকে ম্যানেজ করতে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

এ টাকা দিলেই জিএম, এজিএম এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র মিলে বিনামূল্যে ট্রান্সফরমার লাগিয়ে দিবেন বলে আশা দেন ওই কতিথ দালাল। স্যারদের (জিএমএম, এজিএম, জুনিঃইঞ্জিনিয়র) পক্ষ থেকে এ খবর গ্রাহককে দিতে বলা হয়েছ বলেও দাবি করেন ওই কতিথ দালাল।

তবে ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির লোড এখন বাড়ানো হয়নি বলে জানা গেছে। জরুরী প্রয়োজন হলেও লোড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি না করায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।  

তবে অভিযোগ সব মিথ্যা দাবি করে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার বলেন, একটি গতানুগতিক অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আসলে এসব অভিযোগের সবই মিথ্যা। ট্রান্সফরমার প্রতারণা ও ঘুষের সাথে কাউকে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।