রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

স্বাস্থ্য

দেশে ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৬০

দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গু জ্বরে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মারা গেছেন চারজন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬০ জন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁঢ়িয়েছে ৪২ হাজার ৪৭০ জন। রোববার (১৩ […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ অক্টোবর ২০২৪, ১৮:৩৪

দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গু জ্বরে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মারা গেছেন চারজন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬০ জন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁঢ়িয়েছে ৪২ হাজার ৪৭০ জন।

রোববার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩২৮ জন এবং বাকিরা ঢাকার বাইরের। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬৯৭ জন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৪৭০ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৪৬ জন। মারা গেছেন ২১৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুইজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার। বাকি একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১১, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১২১ ও খুলনা বিভাগে ৭১ জন রয়েছেন।

প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বছর দেশে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। যার মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন।

গত বছর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। গত বছর এক হাজার ৭০৫ জন ডেঙ্গুতে মারা যান, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বাধিক মৃত্যু।

২০১৯ সালে এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রায় ৩০০ জন মারা যান। ২০২০ সালে করোনা মহামারির মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম ছিল, কিন্তু ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এ বছর মারা যান ১০৫ জন। এছাড়া ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৮১ জন মারা যান।

স্বাস্থ্য

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে আর দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তারা বলেছেন, সারা বিশ্বেই হাম বেড়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো এত শিশুর মৃত্যু কোথাও হয়নি। বিশেষজ্ঞরা হামের এই প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে […]

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

সরকারি তথ্যেই হামে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর

নিউজ ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ১০:০০

হামের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেছে ৪০৯ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে আর দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

তারা বলেছেন, সারা বিশ্বেই হাম বেড়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো এত শিশুর মৃত্যু কোথাও হয়নি। বিশেষজ্ঞরা হামের এই প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে শিশুকে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিড না করানো, সময়মতো টিকা না দেওয়া, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না হওয়া, পুষ্টিহীনতা এবং সর্বোপরি শিশুর রোগ প্রতিরোধে ঘাটতিকে দায়ী করেন।

সংক্রমণ চিত্র:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৫ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত ৩৪৪ জনের। হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১১ শিশুর। মৃত্যু হওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৪ শিশুর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো হামবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৫০৩ জন। এসময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০৫ শিশুর শরীরে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ শিশু। নিশ্চিত হামে ঢাকায় ৩ শিশু ও বরিশালে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৩, চট্টগ্রামে ২ ও সিলেটে ২ শিশু মারা গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩০ হাজার ৮৬২ শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮১৯ জন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশন ডিজিজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারিজনিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি (ইমিউনিটি গ্যাপ) হামের সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের ‘হার্ড ইমিউনিটি’ সীমার নিচে নেমে গেলে সেখানে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাম মোকাবিলায় ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে আক্রান্ত শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা জরুরি। মির্জা জিয়াউল বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। পাশাপাশি শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান—(আইইডিসিআর)-এর প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মৃত্যুহার বাড়েনি। দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস থাকবে। তবে মুশকিল হলো, পরিত্রাণের পর আমরা আবার হাম মোকাবিলার কথা ভুলে যাব।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সারা দেশে শিশুদের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। ছয় মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হবে। সেই সঙ্গে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

১ কোটি ৭৩ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান সম্পন্ন: এদিকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেছে। সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ পূরণ হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-রুবেলা টিকাদান সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক টিকা গ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা হিসেবে বরিশালে ১০ লাখ ৮ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রামে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২, ঢাকায় ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০, খুলনায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬, ময়মনসিংহে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫, রাজশাহীতে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩, রংপুরে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ এবং সিলেটে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন।

স্বাস্থ্য

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর […]

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট

০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর বেশির ভাগ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বেডের তুলনায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। হাম রোগীর চিকিৎসাসেবা সামাল দিতে গিয়ে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে এ বছর ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, ২৬০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ সহস্রাধিক রোগী। এর মধ্যেই হাম রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন হাম ও ডেঙ্গু রোগী আসছে। এ সব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অধিকাংশ ডাক্তার ও নার্স কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। বিরামহীনভাবে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭২৯ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন। এক সপ্তাহে বেশ কয়েক জন ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেলেও অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তালিকায় তাদের নাম নেই।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, রাজধানীর বাসিন্দাদের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশা বংশবিস্তার হচ্ছে। এই মশা কামড়ালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হবে বলে কীটতত্ত্ববিদরা জানান। গত বছর দেশ জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে বরগুনা জেলাকে শনাক্ত করা হয়। গত বছর গ্রাম অঞ্চলে এডিস মশার বংশবিস্তারে ভয়াবহ পরিস্থিতি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিল। অধিকাংশ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

আইইডিসিআরের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, দেশব্যাপী এডিস মশা বংশবিস্তারে ঘনত্ব নির্ণয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে হবে। এ বছর গ্রাম অঞ্চলের ব্যাপক হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এডিস মশার নিধন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

রাজশাহী নগরীতে এডিস মশা প্রজনন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, নগরীর এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকি সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, রাজধানী বাসিন্দাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এ বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মশক নিধন কার্যক্রম এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোস্তাক হোসেনও গ্রামাঞ্চলের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একই মতামত পোষণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান বলেন, ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এডিস মশা নিধন নিয়ে একাধিক বার বৈঠক করেছেন। মশক নিধনে যা যা করণীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় নীরব ঘাতক। এই বিষাক্ত বাতাসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রাণহানির পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষমতা, কমছে উৎপাদনশীলতা এবং প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের […]

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

বায়ুদূষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ২৪২জন, বছরে ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০

বাতাসে ভাসমান অদৃশ্য সূক্ষ্ম ধূলিকণাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় নীরব ঘাতক। এই বিষাক্ত বাতাসের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন।

প্রাণহানির পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে কর্মক্ষমতা, কমছে উৎপাদনশীলতা এবং প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের এই ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট।

সম্প্রতি ইউনিটের একটি গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল- এই ছয়টি প্রধান শহরের পিএম২.৫ বা সূক্ষ্ম বস্তুকণাজনিত বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণার ফল বলছে, শুধু এই ছয়টি শহরেই বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে পিএম২.৫ দূষণের কারণে। অর্থাৎ প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন প্রাণ হারাচ্ছেন বায়ুদূষণের প্রভাবে।

এই দূষণের অর্থনৈতিক মূল্যও কম নয়।

গবেষকদের হিসাবে, বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় পাঁচ শতাংশের সমান।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন হৃদরোগে- প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন।

এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে প্রতি বছর।

শহরভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকায় বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ মানুষের অকালমৃত্যু পিএম২.৫ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।

গবেষণায় ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ঢাকায়, যেখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে পিএম২.৫ দূষণের কারণে।

গবেষকদের মতে, এটি নগরাঞ্চলের বায়ুমানের দ্রুত অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গবেষক দলের প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, এটি একই সঙ্গে একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট। বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় পাঁচ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতি আরও বাড়বে।’

তবে গবেষণাটি আশার কথাও বলছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুর গুণগত মান নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এ জন্য তারা পিএম২.৫ নির্গমন কমাতে প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ, শিল্প ও যানবাহনসহ বিভিন্ন দূষণ উৎস নিয়ন্ত্রণ, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।