মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

রমজান মাসের ফজিলত ও আমলসমূহ

পবিত্র রমজান মাসের আগমন মুসলিমদের জন্য অপার আনন্দের বিষয়। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “বলুন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে, তা এর চেয়ে উত্তম।” (সূরা ইউনুস: ৫৮)। আল্লাহর এই অনুগ্রহের তুলনা কোনো পার্থিব সম্পদের সঙ্গে হতে পারে না, কারণ এটি অনন্ত কল্যাণের প্রতীক। রাসূলুল্লাহ […]

নিউজ ডেস্ক

০২ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫৫

পবিত্র রমজান মাসের আগমন মুসলিমদের জন্য অপার আনন্দের বিষয়। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “বলুন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে, তা এর চেয়ে উত্তম।” (সূরা ইউনুস: ৫৮)। আল্লাহর এই অনুগ্রহের তুলনা কোনো পার্থিব সম্পদের সঙ্গে হতে পারে না, কারণ এটি অনন্ত কল্যাণের প্রতীক।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও রমজানের আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। তিনি সাহাবাদের বলতেন, “তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের বন্দি করা হয়। এই মাসে রয়েছে একটি রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।” (নাসায়ী, হাদিস নম্বর: ২১০৬)।

রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত

১. সিয়াম ফরজ হওয়ার মাস
রমজান মাস ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ রোজার মাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। এর একটি হল রমজানের রোজা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৮)।

২. কুরআন নাজিলের মাস
রমজান কুরআন নাজিলের মাস। আল্লাহ বলেন, “রমজান মাস, এতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য দিশারি, স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)।

কুরআন কারিম সপ্তম আকাশের লাওহে মাহফুজ থেকে একসঙ্গে দুনিয়ার আকাশে বায়তুল ইজ্জতে নাজিল করা হয়েছিল, এরপর ধাপে ধাপে রমজান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ হতে শুরু করে।

৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন রমজান মাস আসে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের বন্দি করা হয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১০৭৯)।

৪. লাইলাতুল কদরের বরকতময় রাত
আল্লাহ বলেন, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ এবং রুহ (জিবরাইল) অবতীর্ণ হন প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক বিষয়ের জন্য। শান্তিই শান্তি, সেই রাত ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত।” (সূরা আল-কদর: ৩-৫)।

৫. রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।” (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নম্বর: ৭০৮২)।

৬. রমজান পাপ মোচনের মাস
যারা সত্যিকারের খাঁটি অন্তরে ইবাদত করেন, তাদের জন্য এই মাস পাপ থেকে মুক্তির সুযোগ এনে দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) সাথে রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২০১৪)।

৭. জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস
তিনি আরও বলেন, “রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও বিদ্রোহী জিনদের বন্দি করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। এ সময় একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেন, ‘হে সৎকর্মপরায়ণ! তুমি অগ্রসর হও! হে পাপাচারী! তুমি বিরত হও!’ প্রতি রাতেই বহু মানুষকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।” (তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ৬৮২)।

৮. সৎকাজের প্রতিদান বৃদ্ধি
রমজান মাসে প্রতিটি সৎকর্মের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রমজানে ওমরাহ করলে তা একটি হজের সমতুল্য।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ১৭৮২)।

৯. ধৈর্য ও সবরের মাস
রমজান মাস আমাদের ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়। আল্লাহ বলেন, “ধৈর্যশীলদের জন্য বিনা হিসেবে পুরস্কার রয়েছে।” (সূরা আজ-জুমার: ১০)।

১০. মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মাস
এই মাস মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতির শিক্ষা দেয়। একে অপরকে সাহায্য করা, দান-সদকা বাড়ানো, গরিবদের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ রমজান মাসে আরও বৃদ্ধি পায়।

আমাদের কর্তব্য কী?

রমজান মাসের এই বিশাল নেয়ামত ও ফজিলতকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে আমাদের অবশ্যই সৎকর্মে ব্রতী হতে হবে। যথাযথভাবে রোজা পালন, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, তাহাজ্জুদ ও নফল ইবাদতে মনোনিবেশ করতে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য।” (তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ৩৫৪৫)।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ফজিলত অনুধাবন করে যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১১

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।

ইসলাম ও জীবন

মাদরাসায় যৌন নির্যাতন রোধে কমিশন গঠন-মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ : শায়েখ আহমাদুল্লাহ

মাদরাসাভিত্তিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১০:৫৪

মাদরাসাভিত্তিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একইসঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকলেও দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা জরুরি।

এছাড়া মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শায়েখ দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

এ অবস্থায় হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকলেও দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা জরুরি।

এছাড়া মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শায়েখ দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।

এ অবস্থায় হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।