শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কক্সবাজারে বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছে ৬ হাজার ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ৫

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৬ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও টেকনাফ-উখিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদিকে ভয়াবহ ব্যাপার হলো- চিকিৎসক, নার্সদের আন্দোলনের কারণে গত দুদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু […]

নিউজ ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৩৫

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৬ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও টেকনাফ-উখিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এদিকে ভয়াবহ ব্যাপার হলো- চিকিৎসক, নার্সদের আন্দোলনের কারণে গত দুদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে।

জানা গেছে, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে দুদিন ধরে। বৃহস্পতিবার কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রাইভেট চেম্বারেও রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কর্মসূচির পক্ষে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

এর ফলে এখন বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হাজার হাজার রোগী। এতে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমদ হাওলাদার জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অসচেতনতা। ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা ময়লা এবং পানি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে রোগী দেখলেও ১০ মিনিটের মধ্যেই তাদের বিদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সিট খালি না থাকায় রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তাই যেসব রোগীর সামর্থ্য রয়েছে, তারা ছুটে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। এমনকি বৃহস্পতিবার কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও কোনো ডাক্তারের দেখা মেলেনি। সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসকের দাবি, কিছুটা অনিরাপদ মনে করলেও তারা রোগীদের সেবা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হুমকির কারণে তারা কাজে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী দেখতে না যেতে চিকিৎসকদের নিষেধ করা হয়েছে। এতে করে তারা ভয়ে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী দেখতে যাননি।

এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা ও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও নিরাপত্তার অজুহাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো আন্দোলনরতদের উস্কানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসকদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭০ জনে। এরমধ্যে রোহিঙ্গা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮৫ জন এবং স্থানীয় রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৮৫ জন। এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃত সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত জুন মাসে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এরমধ্যে স্থানীয় ৫৫ জন এবং রোহিঙ্গা ২৭৯ জন। জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৬৫ জন, এরমধ্যে স্থানীয় ৪৮৫ জন এবং রোহিঙ্গা ৪৮০ জন। আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে ৪২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে, এরমধ্যে ১৪৪৮ জন স্থানীয় এবং ২৭৯৯ জন রোহিঙ্গা। গত মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বরণ করেছে ৫ জন রোহিঙ্গা রোগী। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমদ হাওলাদার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিরোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে আন্দোলনের কারণে ডেঙ্গু রোগীসহ অন্যান্য রোগীও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের আগে এটি সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলন কবে নাগাদ প্রত্যাহার হবে, জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, চিকিৎসক-নার্স এবং হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন না।

বিনা চিকিৎসায় হাজারো রোগী কাতরাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়ে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা লেখেন, আমাদের কাজ আমরা করব’।

আন্দোলনে তার উস্কানির অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। তারা আন্দোলনের বিষয়ে কিছু না বললেও চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের একটি টিমও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় মামলাও করা হয়েছে এবং ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও আন্দোলন কেন চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, তারা আমাকে আন্দোলনের বিষয়টি জানায়নি, তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার বিষয়ে ডিসি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আমি যেহেতু নতুন যোগদান করেছি, হাসপাতালে সরজমিনে যাব।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশেকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি আবদুল আজিজ নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনার জেরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজীব কাজীকে মারধর করা হয়। এরপর আইসিইউ, সিসিইউসহ হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে কর্মবিরতিতে যান হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও কর্মীরা। এরপর থেকে জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও আবাসিক চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। ফলে ভর্তি রোগীরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। নানা দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। […]

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ১০:২৮

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে কালু, পারভেজ ও তাদের কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। প্রথমে কালু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর র‌্যাব-৪-এর আভিযানিক দল জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।