রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কক্সবাজারে বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছে ৬ হাজার ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ৫

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৬ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও টেকনাফ-উখিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদিকে ভয়াবহ ব্যাপার হলো- চিকিৎসক, নার্সদের আন্দোলনের কারণে গত দুদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু […]

নিউজ ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৩৫

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৬ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও টেকনাফ-উখিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এদিকে ভয়াবহ ব্যাপার হলো- চিকিৎসক, নার্সদের আন্দোলনের কারণে গত দুদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে।

জানা গেছে, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে দুদিন ধরে। বৃহস্পতিবার কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রাইভেট চেম্বারেও রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কর্মসূচির পক্ষে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

এর ফলে এখন বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হাজার হাজার রোগী। এতে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমদ হাওলাদার জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অসচেতনতা। ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা ময়লা এবং পানি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে রোগী দেখলেও ১০ মিনিটের মধ্যেই তাদের বিদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সিট খালি না থাকায় রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তাই যেসব রোগীর সামর্থ্য রয়েছে, তারা ছুটে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। এমনকি বৃহস্পতিবার কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও কোনো ডাক্তারের দেখা মেলেনি। সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসকের দাবি, কিছুটা অনিরাপদ মনে করলেও তারা রোগীদের সেবা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হুমকির কারণে তারা কাজে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী দেখতে না যেতে চিকিৎসকদের নিষেধ করা হয়েছে। এতে করে তারা ভয়ে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী দেখতে যাননি।

এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা ও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও নিরাপত্তার অজুহাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো আন্দোলনরতদের উস্কানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসকদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭০ জনে। এরমধ্যে রোহিঙ্গা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮৫ জন এবং স্থানীয় রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৮৫ জন। এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃত সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত জুন মাসে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এরমধ্যে স্থানীয় ৫৫ জন এবং রোহিঙ্গা ২৭৯ জন। জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৬৫ জন, এরমধ্যে স্থানীয় ৪৮৫ জন এবং রোহিঙ্গা ৪৮০ জন। আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে ৪২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে, এরমধ্যে ১৪৪৮ জন স্থানীয় এবং ২৭৯৯ জন রোহিঙ্গা। গত মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বরণ করেছে ৫ জন রোহিঙ্গা রোগী। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমদ হাওলাদার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিরোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে আন্দোলনের কারণে ডেঙ্গু রোগীসহ অন্যান্য রোগীও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের আগে এটি সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলন কবে নাগাদ প্রত্যাহার হবে, জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, চিকিৎসক-নার্স এবং হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন না।

বিনা চিকিৎসায় হাজারো রোগী কাতরাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়ে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা লেখেন, আমাদের কাজ আমরা করব’।

আন্দোলনে তার উস্কানির অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। তারা আন্দোলনের বিষয়ে কিছু না বললেও চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের একটি টিমও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় মামলাও করা হয়েছে এবং ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও আন্দোলন কেন চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, তারা আমাকে আন্দোলনের বিষয়টি জানায়নি, তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার বিষয়ে ডিসি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আমি যেহেতু নতুন যোগদান করেছি, হাসপাতালে সরজমিনে যাব।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশেকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি আবদুল আজিজ নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনার জেরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজীব কাজীকে মারধর করা হয়। এরপর আইসিইউ, সিসিইউসহ হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে কর্মবিরতিতে যান হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও কর্মীরা। এরপর থেকে জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও আবাসিক চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। ফলে ভর্তি রোগীরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। নানা দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলছে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।