শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতি গভীর সংকটে ভারত সম্পর্ক নিয়ে পিনাকির হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্য তার ইউটিউব চ্যানেলে বিশদ আলোচনা করেছেন। তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাত এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। পিনাকি ভট্টাচার্যের মতে, বর্তমান সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস আসীন হবেন। তিনি মনে করেন, […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২২:২২

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্য তার ইউটিউব চ্যানেলে বিশদ আলোচনা করেছেন। তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাত এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন।

পিনাকি ভট্টাচার্যের মতে, বর্তমান সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস আসীন হবেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্বের প্রতি বিদেশি সংস্থাগুলোর আস্থা থাকায় তারা কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তার সরকারকে সহায়তা করবে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলছে এবং তারা দিল্লির সমর্থন পেয়েই টিকে আছে। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেই সমর্থন কতটুকু কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

পিনাকি ভট্টাচার্য বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপি ২০২৬ সালে এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও সংঘাতের পাশাপাশি পোশাক, কৃষি, অর্থনীতি ও ওষুধ শিল্পে সম্ভাব্য সংকট দেখা দিতে পারে, যার জন্য বিএনপি যথাযথ প্রস্তুতি নেয়নি।

তিনি মনে করেন, বিএনপির কাছে এই সংকট মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই, যা তাদের জন্য ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

পিনাকি ভট্টাচার্য দাবি করেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে আগামী নির্বাচনে যেতে চায় এবং সেই মোতাবেক আওয়ামী লীগকে সমর্থন ও পুনর্বাসন করছে। তার মতে, ভারতীয় আধিপত্য বজায় রাখতে ভারত আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের মাঠে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, আর বিএনপি ক্ষমতার আশায় ভারতের সঙ্গে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, “এখন আওয়ামী লীগ-ভারতের বাসর চলছে, আওনারা ঐখানে ঢোকার চেষ্টা করবেন না। ভারতকে আপনারা এখনো চিনতে পারেন নাই।” তার মতে, ভারত বিএনপিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য রাজনৈতিক কোনো সুবিধা নিশ্চিত করবে না।

পিনাকি ভট্টাচার্যের এসব ভবিষ্যদ্বাণী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি শক্তিগুলোর ভূমিকা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক কৌশল কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা-ই ঠিক করবে আগামী দিনের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি।

এখন দেখার বিষয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কীভাবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে আগামীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। জনগণের প্রত্যাশা, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুই দলই যথাযথ কৌশল গ্রহণ করবে।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭