রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বদলির আদেশের পরেও পুরনো কর্মস্থলে এসআই এনামুল, সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে ওসির ঘুষ

কুমিল্লা প্রতিনিধি জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সুপারের বদলির আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো কর্মস্থলে অন্তত চার মাস ধরে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই এনামুলের বিরুদ্ধে। নিজ জেলা ও দাউদকান্দি মডেল থানার পার্শ্ববর্তী তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোক হওয়ায় বদলিকৃত এই অফিসারকে না ছাড়ার পিছনে সরাসরি জড়িত রয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী নিজেই। সাম্প্রতিক […]

বদলির আদেশের পরেও পুরনো কর্মস্থলে এসআই এনামুল, সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে ওসির ঘুষ

বদলির আদেশের পরেও পুরনো কর্মস্থলে এসআই এনামুল, সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে ওসির ঘুষ

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ২২:১৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি

জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সুপারের বদলির আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো কর্মস্থলে অন্তত চার মাস ধরে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই এনামুলের বিরুদ্ধে। নিজ জেলা ও দাউদকান্দি মডেল থানার পার্শ্ববর্তী তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোক হওয়ায় বদলিকৃত এই অফিসারকে না ছাড়ার পিছনে সরাসরি জড়িত রয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী নিজেই। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে গত ৩ জানুয়ারি টাইমস নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পুরনো কর্মস্থল ছাড়েননি অভিযুক্ত এই দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তা। উল্টো এই দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে সাংবাদিককে বার বার ম্যানেজ করতে ঘুষ দেওয়ার সরাসরি চেষ্টা করেছেন ওসি জুনায়েত চৌধুরী।

গত ৩ জানুয়ারি নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর রহস্যময়ভাবে সেই পুলিশ কর্মকর্তারকে না ছেড়ে উল্টো ৩ দিনের ছুটিতে পাঠান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ নিয়ে ১১ জানুয়ারি (শনিবার) সরাসরি কথা বলতে আমরা মুখোমুখি হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর। এ সময় দুই-তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সেই পুলিশ অফিসারকে ছেড়ে দিবেন বলে ১ম দফায় নিজ অফিসে বসে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে সাংবাদিককে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা ঘুষ দিতে চেষ্টা করেন সেই ওসি। কিছুদিন পরে (গত শুক্রবার) ২য় দফায় সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে আবারো চেষ্টা করেন থানার ওসি জানায়েত চৌধুরী। এজন্য দাউদকান্দি থেকে অন্তত ৫০ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত কুমিল্লা নগরীতে টাইমস নিউজের অফিসে পাঠান পুলিশের আরেক এসআইকে। আগত সেই পুলিশ অফিসার এ সময় সাংবাদিককে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা ঘুষ দিতে চেষ্টা করেন এবং বিষফোরক মন্তব্য করেন তিনি নানা বিষয়ে।

জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ০৯ অক্টোবর- ২০২৪ তারিখে কুমিল্লার পুলিশ সুপার একটি বদলির আদেশ দেন। সেখানে এসআই এনামুলকে দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে লালমাই থানাধীন ভূচ্চি পুলিশ ফাঁড়িতে বদলির আদেশ দেন। কর্মজীবনে নানান ধরণের অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে পত্রিকার পাতার হেডলাইন হয়েছেন বহুবার দাপুটে এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবুও থেমে নেই তার অপকর্মের চাকা। এসআই এনামুল হক ২০১৩খ্রিঃ থেকে ২০১৫ খ্রিঃ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন টানা দাউদকান্দি মডেল থানাধীন গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তৎকালিন সময়ে অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা রেঞ্জে বদলি হন তিনি। কিন্তু রহস্যময়ভাবে তিনি সেখান থেকে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে আবারও বদলি হন কুমিল্লায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও জড়িয়ে পড়েন নানান ধরণের অপরাধে। ফলে আবারও তাকে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি করা হয় নৌ-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে।

তারপর পুলিশের হেডকোয়ার্টার এর নির্দেশে কুমিল্লা জেলা ব্যতীত অন্য জেলায় বদলি হতে পারবে মর্মে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়। পরে তিনি নামমাত্র লক্ষীপুর জেলায় বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে ১ মাসের ব্যবধানে তৎকালিন সময়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল হক (বর্তমান কর্মস্থল দাউদকান্দির পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁদপুরের একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে) এর ইচ্ছেতে ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে হাত করে আবারও বদলি হন কুমিল্লায়। এরপর ২০২৩ সালের শেষ দিকে তৎকালিন পুলিশ সুপার আব্দল মান্নানকে ম্যানেজ করতে সরাসরি ওসি মোজাম্মেল তদবির করেন তাকে দাউদকান্দি মডেল থানায় পদায়নের জন্য। পরে তিনি সে সময় আবারও যোগ দেন পুরনো কর্মস্থল দাউদকান্দি মডেল থানায়। এরপর তাকে পিছনে ফিরে আর তাকাতে হয়নি।

আওয়ামি লীগ সরকারের আমলে জড়িয়েছিলেন নানা অনিয়মে। নিজেকে জড়িয়েছিলেন আওয়ামীলীগের বিশ্বস্ত এক হাতিয়ার হিসেবে। ৫ আগষ্টের পরে সবকিছু পাল্টে গেলেও পাল্টেনি এসআই এনামুল। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগষ্টের পরে তার চিরচেনা পুরনো কর্মস্থল দাউদকান্দিতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের পলাতক বহু নেতাকমীর সাথে তার এখনো যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পদায়ন হওয়া দাউদকান্দি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হারুন দীর্ঘ দুই বছরের উপরে সময় অতিবাহিত করলেও তার বদলির কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ। অভিযোগ রয়েছে ৫ আগষ্টের পর পলাতক আসামীদের সাথে রয়েছে তারও গোপন যোগাযোগ। 

উল্লেখ যে, ওসি মোজাম্মেল যখন চট্টগ্রাম জেলার শীতাকুন্ড থানার তদন্ত ইন্সপেক্টে, তখন সে সময়ের চট্টগ্রাম জেলার এসপি ছিলেন নুরে আলম মিনা। সময়ের ব্যবধানে ২০২৩ সালে যখন নুরে আলম মিনা চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদান করেন তখনি ওসি মোজাম্মেল বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি হয়ে বাগিয়ে নেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসির চেয়ারটি। এরপর ওসি মোজাম্মেল পুলিশ বাহিনীর আড়ালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে তুলেন অপরাধের সাম্রাজ্য। আর এই অপরাধ সাম্রাজ্যের সিন্ডিকেট বাহিনীতে ছিলেন থানার এসআই এনামুল, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হারুন ও থানাধীন গৌরিপুর পালিশ ফাঁড়ির এসআই সাইদুল ইসলাম অন্যতম। ৫ আগষ্টের পর অন্য সদস্যরা বদলি হলেও এই দুই ব্যক্তি এখনো রয়েছেন পুরনো কর্মস্থলেই। যা নিয়ে রহস্য যেন কিছুতেই থামছে না তাদেরকে নিয়ে।

৫ আগষ্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানী, মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ঘুষ কেলেঙ্কারী, নিরিহ মানুষদেরকে মাদক দিয়ে হয়রানি ও জব্দকৃত মালামাল আত্মসাৎসহ নানান ধরণের গুরুতর অপকর্মে জড়িত থাকার বিষয়ে গত বছরের ১৩ জুন ও ২৪ জুন দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় থানা পুলিশের সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ২৪ জুন- ২৪ খিঃ, কুমিল্লার পুলিশ সুপারের ২৭ জুন- ২৪খিঃ ও ২৯জুন- ২৪ খিঃ তারিখে স্বারকের পেক্ষিতে সহকারী পুলিশ সুপার, দাউদকান্দি সার্কেলকে ৩০ জুন- ২০২৪ তারিখে পুলিশ সাদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানপূর্বক ২১ কার্য দিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় ২৪’র জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনার পেক্ষিতে সেই প্রতিবেদন আদৌ জমা দিতে পারেননি তদন্ত কর্তৃপক্ষ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।