বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

মিরাজ সফরে অর্জিত বিশেষ তিনটি উপহার

মিরাজ, ইসলামের এক অতুলনীয় ও অলৌকিক ঘটনা, যেখানে রসুলুল্লাহ সা. আল্লাহর নির্দেশে আসমান ও জমিনের সীমানা পেরিয়ে এক মহান সফরে গমন করেন। এই সফরে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত, জাহান্নাম এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও উপহারসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। মিরাজের এই ঘটনা মুসলমানদের জন্য একটি অতুলনীয় শিক্ষা এবং বিশ্বাসের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে অবস্থান করে। এতে নবী সা.-এর […]

নিউজ ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:০৯

মিরাজ, ইসলামের এক অতুলনীয় ও অলৌকিক ঘটনা, যেখানে রসুলুল্লাহ সা. আল্লাহর নির্দেশে আসমান ও জমিনের সীমানা পেরিয়ে এক মহান সফরে গমন করেন। এই সফরে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত, জাহান্নাম এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও উপহারসমূহ প্রত্যক্ষ করেন। মিরাজের এই ঘটনা মুসলমানদের জন্য একটি অতুলনীয় শিক্ষা এবং বিশ্বাসের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে অবস্থান করে। এতে নবী সা.-এর উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অমূল্য উপহার দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী জীবনে আমাদের কর্ম ও আচরণকে সঠিক পথ দেখায়।

সিদরাতুল মুনতাহা

নবী কারীম সা.-কে নিয়ে যাওয়া হল সিদরাতুল মুনতাহার দিকে। সেই কুল বৃক্ষের একেকটি পাতা হাতির কানের মতো। আর একেকটি ফল মটকার মতো বড় বড়। যখন ওটাকে আল্লাহর বিধান আচ্ছন্ন করে নিল তা পরিবর্তিত হয়ে গেল। সৃষ্টির কারো সাধ্য নেই তার সৌন্দর্যের বিবরণ দেবার। জিবরীল বললেন, এটা সিদরাতুল মুনতাহা। এখানে চারটি নহর। দুটি অদৃশ্য আর দুটি দৃশ্যমান। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, দৃশ্যমান নদী দুটি কোনগুলো? জিবরীল বললেন, অদৃশ্যমান দুটি জান্নাতে। আর দৃশ্যমান দুটি হল নীল নদ ও ফুরাত নদী।

এরপর আল্লাহ তায়ালা নবী সা.-এর প্রতি যে ওহি পাঠানোর পাঠালেন। দিনরাতে উম্মতের জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিলেন। নবী কারীম সা. আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের এ হাদিয়া নিয়ে ফেরত আসছিলেন; এরই মধ্যে দেখা হজরত মুসা আ.-এর সাথে। হজরত মুসা আ. জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ আপনার উম্মতের জন্য কী দিয়েছেন? নবী কারীম সা. বললেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ। হজরত মুসা বললেন, আপনার উম্মত রাত-দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারবে না। আপনি আল্লাহর কাছে গিয়ে কমিয়ে আনেন।

নবী সা. সে মতে আল্লাহর কাছে গিয়ে কম করে দেওয়ার দরখাস্ত করলেন। আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। নবী সা. তা নিয়ে ফেরত আসছিলেন। আবার হজরত মুসা আ.-এর সাথে দেখা হল। বললেন, আপনার উম্মত তা পারবে না। আপনি আরো কমিয়ে আনুন। নবীজি আবার আল্লাহর কাছে গিয়ে আগের মতো দরখাস্ত করে আরো পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে আনলেন। নবী সা. বলেন, এভাবে আমি আল্লাহ ও মুসার মাঝে আসা-যাওয়া করতে থাকি। শেষবার আল্লাহ বলেন, মুহাম্মাদ! এই হল দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।

প্রত্যেক নামাযের বিনিময়ে দশ নামাযের সাওয়াব। এভাবে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সওয়াব পাবে। কেউ কোনো ভালো কাজের ইচ্ছা করবে কিন্তু করতে পারবে না, তার জন্যও নেকী রয়েছে। এক নেকী। আর যদি ভালো কাজটি করে তাহলে তার জন্য দশ নেকী। আর কেউ কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা করলে কোনো গুনাহ লেখা হবে না। তবে তা করে বসলে একটি গুনাহ লেখা হবে।

নবী সা. এ সওগাত নিয়ে ফেরত আসছিলেন। হজরত মুসার সাথে দেখা হল। মুসা আ. এবার শুনে বললেন, আপনি যান, আরো কমিয়ে আনুন। আপনার উম্মত পারবে না। বনী ইসরায়েলের বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আছে। নবী কারীম সা. বললেন, আমার আর কিছু বলতে লজ্জা হচ্ছে! ( বুখারি শরিফ, হাদিস ৩৮৮৭; মুসলিম শরিফ, হাদিস: ১৬২-১৬৪)
এ সফরে নবী কারীম সা. জান্নাত-জাহান্নামের ভ্রমণও করানো হয়। নবীজী বলেন, জান্নাতের প্রাসাদগুলো মুক্তার তৈরি আর তার মাটি হল মেশকের। ( বুখারি শরিফ, হাদিস: ৭৫১৭)

নবী সা. এ সফরে একদল লোককে দেখলেন, তাদের নখগুলো তামার। নিজেদের নখ দিয়ে তারা নিজের গাল ও বুকে আঁচড় কাটছে। জিজ্ঞাসা করলেন, জিবরাইল, এরা কারা? বললেন, এরা ওই সমস্ত লোক, যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের সম্ভ্রমে আঘাত হানত। অর্থাৎ গিবত করত এবং মানুষকে লাঞ্ছিত করত। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১৩৩৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৮৭৮)

মিরাজ থেকে ফিরার পর কাফেরদের আচরণ

মিরাজ থেকে ফিরে রসুলুল্লাহ সা. হাতীমে বসে আছেন। মুশরিকরা ইসরা ও মেরাজের ঘটনা শুনে উপহাস ও কটাক্ষ করতে লাগল। বিভিন্নভাবে নবীর দিকে প্রশ্নের তীর ছুড়তে লাগল। তারা চাইল, বাইতুল মাকদিসের পূর্ণ বিবরণ শুনবে। নবী সা. এমন প্রশ্নে খুবই বিব্রত হয়ে ওঠেন। এতো রাতে কি বাইতুল মাকদিস ওরকম নিখুঁতভাবে দেখতে গিয়েছেন নাকি! নবী কারীম সা. বলেন, এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমি আগে পড়িনি।

এখানেও ঘটলো আরেক মুজিযার ঘটনা। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবকে সাহায্য করলেন। তিনি নবী সা.-এর চোখের সামনে মেলে ধরলেন বাইতুল মাকদিসের পূর্ণ দৃশ্য। নবী সা. দেখে দেখে তাদের প্রত্যেকটি প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দিলেন। সুবহানাল্লাহ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৭২)

এসফরে অর্জিত বিশেষ তিনটি উপহার

এ সফরে নবী সা. ও উম্মতে মুহাম্মাদিকে তিনটি উপহার দেওয়া হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো এবং এই উম্মতের যারা শিরক থেকে বেঁচে থেকে মৃত্যুবরণ করবে তাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়ার ঘোষণা।(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৭৩)

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইসলামের এই অতুলনীয় ও অলৌকিক ঘটনা থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন । আমিন ।

লেখক: মুফতি মুখলিছুর রহমান
মুদাররিস: জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম কুষ্টিয়া

ইসলাম ও জীবন

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা […]

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া
তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

আন্তর্জাতিক

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন […]

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

‘মমতা হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প’- পদত্যাগ করতে না চাওয়ায় দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৩:৫২

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও খড়্গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। তিনি মমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন-

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলেই নৈতিক, বাকি সব অনৈতিক। তিনি হচ্ছেন শাড়ি পরা ট্রাম্প।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ট্রাম্প যেমন হার মানতে চাননি এবং জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি সুযোগ পেলে মমতাও জনতাকে রাস্তায় নামিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং তাকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিলে তিনি ফের শপথ নেন। নাহলে কুর্সি ছাড়তে হয়।

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন-

আমরা তো হারিনি যে রাজভবনে যাব। হারলে আমি রেজিগনেশন দিতাম। এখন প্রশ্নই ওঠে না। জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫০৩২

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।