বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

খেলা

তামিম ইকবালের অবসর: বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক যুগের সমাপ্তি

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেন। তামিম বলেন- "আমি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি। এই দূরত্ব আর কমবে না। আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শেষ।"

তামিম ইকবালের অবসর: বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক যুগের সমাপ্তি

সেঞ্চুরির পরে তামিম ইকবালের সেলিব্রেশন

ক্রিড়া ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:৪৩

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেন। তামিম বলেন-

“আমি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি। এই দূরত্ব আর কমবে না। আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শেষ।”

তামিম ইকবাল তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০৭ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তিনি ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে।

তামিম ইকবালের ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন:

  • টেস্ট ক্রিকেটে ৭০টি ম্যাচে ৫১৩৪ রান, ১০টি সেঞ্চুরি এবং ৩১টি হাফ-সেঞ্চুরি
  • ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৪৩টি ম্যাচে ৮৩৫৭ রান, ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ৫৬টি হাফ-সেঞ্চুরি
  • টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৭৮টি ম্যাচে ১৭৫৮ রান, ১টি সেঞ্চুরি এবং ৭টি হাফ-সেঞ্চুরি
  • ২০১১ সালে উইজডেন ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন।
  • ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।
  • বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করেছেন।

 

তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান-

ফরম্যাট ম্যাচ ইনিংস NO রান HS Ave BF SR 100s 50s চার ছয় Ct St
টেস্ট ৭০ ১৩৪ ৫১৩৪ ২০৬ ৩৮.৮৯ ৮৮৫২ ৫৭.৯৯ ১০ ৩১ ৬৫৫ ৪১ ২০
ওডিআই ২৪৩ ২৪০ ১২ ৮৩৫৭ ১৫৮ ৩৬.৬৫ ১০৬৪২ ৭৮.৫২ ১৪ ৫৬ ৯২৫ ১০৩ ৬৮
টি২০আই ৭৮ ৭৮ ১৭৫৮ ১০৩* ২৪.০৮ ১৫০৩ ১১৬.৯৬ ১৮৮ ৪৫ ১৮
এফসি ১০৪ ১৯৩ ৭৯৪৫ ৩৩৪* ৪৩.১৭ ১৭ ৪৪ ৩৫
লিস্ট এ ৩১৬ ৩১৩ ১৭ ১১৩৬৮ ১৫৮ ৩৮.৪০ ১৩৯৫৭ ৮১.৪৫ ২২ ৭২ ৮৮
টি২০ ২৭২ ২৭১ ২৬ ৮০৩১ ১৪১* ৩২.৭৭ ৬৬২২ ১২১.২৭ ৫২ ৮৩৭ ২৫২ ৮৩

সংক্ষেপ শব্দের পূর্ণরূপ:

  • NO: নট আউট (অপরাজিত)
  • HS: হাইস্কোর
  • Ave: গড় (Batting Average)
  • BF: বোলিং ফেস
  • SR: স্ট্রাইক রেট (Strike Rate)
  • 100s: শতক (Centuries)
  • 50s: অর্ধশতক (Half-Centuries)
  • Ct: ক্যাচ (Catches)
  • St: স্টাম্প (Stumpings)

তামিম ইকবালের কিছু স্থিরচিত্র

তামিম ইকবাল এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে অবসর ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।

তামিম তার সিদ্ধান্তের কথা সিলেটে বাংলাদেশ নির্বাচকদের জানান। গাজী আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন প্যানেল তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশ দলে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। তামিম তখন তাদের বলেছিলেন যে তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন, কিন্তু কিছু বাংলাদেশি খেলোয়াড়, বিশেষ করে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, তাকে পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করার পর তিনি একদিন বেশি সময় নেন।

“আমি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি,” তিনি ফেসবুকে লিখেছেন।

“এই দূরত্ব থাকবে। আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শেষ। আমি দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে ভাবছি। এখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো একটি বড় ইভেন্ট আসছে, আমি কারও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাই না, যা দলের মনোযোগ হারাতে পারে। অবশ্যই, আমি আগে এটি ঘটতে চাইনি।”

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াড ঘোষণা করার সময়সীমা ১২ জানুয়ারী এবং বিসিবি তামিম খেলতে চান কিনা তা দেখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিল। তামিম তার ঘরোয়া ফর্ম এবং ফিটনেসের জন্য প্রতিযোগিতায় ছিলেন। তারপর থেকে তিনি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে গেছেন, যার মধ্যে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে ২০২৪ বিপিএল জেতা এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে শেষ করা। তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো করেছেন এবং তারপর ঘরোয়া এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে আরও রান করেছেন এবং এই বিপিএল মৌসুমেও তিনি রান করেছেন।

তামিম বলেছিলেন যে বিসিবি তার প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা “অপ্রয়োজনীয়” ছিল কারণ তিনি ২০২৪ সালের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেকে বাদ দিয়েছিলেন যাতে নিজেকে বাংলাদেশ থেকে দূরে রাখা যায়।

তামিম ইকবালের এই অবসর ঘোষণা বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের সমাপ্তি নির্দেশ করে। তার অসাধারণ ক্যারিয়ার এবং অবদানের জন্য তিনি সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

খেলা

“ভাই, ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি করে দিলেন”- ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ‘দুই’ হস্তক্ষেপে মুখ খুললেন বুলবুল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। মূলত চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বিসিসিআই বাদ দিলে দুই দেশেরে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত আর বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিসিসিআইকে এক চিঠি দেয় বিসিবি। […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০৮

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। মূলত চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বিসিসিআই বাদ দিলে দুই দেশেরে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত আর বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিসিসিআইকে এক চিঠি দেয় বিসিবি। ধারণা করা হয়েছিল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক উন্নয়নে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এবার জানা গেলো বিসিবির পক্ষ থেকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘তাকে (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে) একটা কথা বলবো, আপনি ভাই ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি করে দিলেন।

ওনার দুটি হস্তক্ষেপের কথা বলতে পারি, প্রথম দিনই উনি সরাসরি প্রধান নির্বাহীকে ফোন করলেন সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দিতে। আরেকটা হলো, কয়েক দিন আগে দেখেছেন বিসিবি একটা চিঠি দিয়েছে বিসিসিআইকে। এটা উনি সিইওর সঙ্গে বসে করেছেন, আমি শুধু কপিতে ছিলাম।

এই যে সিস্টেমটাকে নষ্ট করে ফেলছে, এর দায় কে নেবে। আমি তো চলে যাবো, হয়তো আর কোনো দিনও আসবো না। কিন্তু আপনারা তো এখানে থাকবেন, আপনাদের এই ক্রিকেটটাকে তো বাঁচাতে হবে।’

সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তবে এখনও নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন বুলবুল।

তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমিই এখনো বিসিবি সভাপতি। যারা বোর্ড ভেঙেছে, তারা তা করতে পারে না, এখতিয়ারে নেই।’

খেলা

তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চাইলেন বুলবুল

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও আইনসম্মত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনএসসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের […]

নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও আইনসম্মত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনএসসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বুলবুল। তার দাবি, ৫ এপ্রিল প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনটি আইনগতভাবে টেকসই নয় এবং এতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনকে বৈধ ও স্বচ্ছ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। বুলবুল জানান, ওই নির্বাচনের জন্য ৬ সেপ্টেম্বর একটি তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন। কমিশনের অন্য সদস্য ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক।
নির্বাচনকে ঘিরে ১৫টি ক্লাব ও তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ওঠা আপত্তিগুলোও আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান বুলবুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আধা-বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বিরোধের সমাধান করা হয়।

এনএসসির এই তদন্তকে এখতিয়ারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে বুলবুল বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে পরিচালিত এই তদন্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন।

অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, এই কমিটির কোনো বৈধতা নেই এবং তারা এটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না।

বিবৃতির শেষাংশে বুলবুল সতর্ক করে বলেন, এমন হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এতে বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক অংশীদারদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করে আইসিসির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বুলবুল।

‘২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর নিরপেক্ষ তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা কোনো সরকারি সংস্থা পরবর্তীতে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছি।’

ক্রিকেট

‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ […]

‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’

‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৯

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।

তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।



এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।


সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’

দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি।

জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি।

২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।