মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নীলফামারীতে রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষক

রাকিবুল হাসান,নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে ছয় হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জেলায় ৮৩২ হেক্টর জমিতে রসুন চাষে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জিত জমির পরিমান ৭২৪ হেক্টর (চলমান)। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। দাম চড়া হওয়ায় মাঠে মাঠে রসুন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ জানুয়ারী ২০২৫, ২০:০৬

রাকিবুল হাসান,নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে ছয় হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জেলায় ৮৩২ হেক্টর জমিতে রসুন চাষে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জিত জমির পরিমান ৭২৪ হেক্টর (চলমান)। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। দাম চড়া হওয়ায় মাঠে মাঠে রসুন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রউফ জানায়, ‘সার, বীজ, সেচ, নিড়ানী, হাল ও কৃষি শ্রমিকসহ খরচ হয় বিঘা প্রতি প্রায় ৪৫-৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় রসুন উৎপাদন হয় ১৮ থেকে ২০ মন। বর্তমান বাজারে পাইকারী ২২০ টাকা কেজি হিসাবে প্রতিমন রসুন আট হাজার ৮০০ টাকা হিসাবে মূল্য দাঁড়ায় এক লক্ষ্য ৭৬ হাজার টাকা। আর খরচ বাদে এক বিঘা জমিতে লাভ হবে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার টাকা। বাজারে দাম ভাল পেয়ে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের রসুন চাষে। এটি মসল্যা জাতীয় ফসল হওয়ায় কদর অনেক বেশী।’’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমতল জমিসহ তিস্তার পতিত চড় এলাকা জুড়ে রসুন চাষের ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা চর এলাকার কৃষক শাহিন ইসলাম বলেন, ‘আমি এবার তিন বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। বাজারে চাহিদা অনেক বেশী এবং দামও অনেক চড়া। আশা করি, আমার তিন বিঘা জমিতে রসুনের উৎপাদন হবে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ মন। ওই পরিমান রসুন ফলাতে আমার ব্যয় হবে এক লাখ ৫০ টাকা। আর বাজার ভাল থাকলে খরচ বাদে লাভ হবে প্রায় তিন লাখ ৭৮ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ধান, পাট, গম ও ভূট্টার আবাদ কমিয়ে দিয়ে সবজি ও মসল্লা জাতীয় ফসল রসুন আবাদ করছি। এবার ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার চাহিদা মিটিয়ে পরিবারের অভাব অনাটন মোচন করতে পারবো।
উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক হারুন ইসলাম বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবার সার বীজ, মুজুরির দাম একটু বেশি। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। আবহাওয়া ভাল থাকলে বিঘা প্রতি রসুনের ফলন হবে ১৮ থেকে ২০ মন। আশা করি, খরচ বাদে বিঘায় লাভ হবে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো। রসুন চাষে রোগ বালাইসহ খরচও কম হয়। অল্প খরচে লাভ বেশী, তাই এবার সংসারের চাহিদা মিটিয়ে লাভবান হতে পারবো।’
নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ গ্রামের রসুন চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এবার নিজশ্ব বীজ দিয়ে দেড় বিঘা জমিতে রসুনের চাষ করেছি। আবহাওয়া ভাল থাকায় চাড়া গুলো লক লক করে বেড়ে উঠছে। আগামি মাসে রসুন ঘরে তুলতে পারবো। নিজের বাড়ীর বীজ হওয়ায় বেশী লাভের আশা করছি। সার, সেচ ও পরিচর্চায় সামান্য খরচে হয়েছে। ফলন ও বাজার দু,টাই ভাল হলে পুরো ফসলটাই লাভ হবে বলে মনে করি।’’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ জানান, ‘এই উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সদরে ৫ হেক্টর জমিতে রসুনের বেশী চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার বাজারে দাম ও ফলন দু,টাই ভাল হবে। মাঠে পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। রসুন চাষে থেমে নেই এই এলাকার কৃষকরা। আবহাওয়া ভাল হলে রসুনের বাম্পার ফলন হবে আশা করেন তিনি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জেলায় এবার ৮৩০ হেক্টর জমিতে রসুনের চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। ছয় হাজার ৯৭২ মেট্রিকটন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আশা করি, বাজার দর স্থায়ী হলে কৃষক রসুন চাষে লাভবান হবে। এসব রসুন দেশের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করবে। অল্প খরচে বেশী লাভে এই মসল্লা জাতীয় ফসল চাষে আগামিতে কৃষক আরও আগ্রহী হবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।