বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লালমনিরহাটে ভুট্টার বীজের অঙ্কুরোদম না হওয়ায় নকল বীজের অভিযোগ

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা বর্তমানে এক নতুন আতঙ্কের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই আতঙ্কের নাম হলো ভুট্টার বীজ। কৃষকরা জানাচ্ছেন, গত কিছুদিন ধরে বাজারে বিক্রি হওয়া ভুট্টার বীজগুলোর বেশিরভাগই অঙ্কুরোদম হচ্ছে না, ফলে তাদের জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণ করা সত্ত্বেও কোনো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা পুনরায় নতুন বীজ […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:০৪

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা বর্তমানে এক নতুন আতঙ্কের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই আতঙ্কের নাম হলো ভুট্টার বীজ। কৃষকরা জানাচ্ছেন, গত কিছুদিন ধরে বাজারে বিক্রি হওয়া ভুট্টার বীজগুলোর বেশিরভাগই অঙ্কুরোদম হচ্ছে না, ফলে তাদের জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণ করা সত্ত্বেও কোনো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা পুনরায় নতুন বীজ কিনে জমিতে আবারও রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা অভিযোগ করছেন, বাজারে নকল বীজ বিক্রি হওয়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটছে। যদিও বিভিন্ন বীজ কোম্পানি এবং বিক্রেতাদের দোষারোপ করা হচ্ছে, তবে এই অভিযোগে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। উপজেলা কৃষি অফিস কিংবা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, তারা চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে বেশ ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বীজ রোপণের পর অঙ্কুরোদম না হওয়ার কারণে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, “বীজ রোপণের পর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কিছুই হয়নি। অনেক বীজ একেবারে অঙ্কুরিত হয়নি। আবার কিছু কিছু বীজ অঙ্কুরিত হলেও তা ঠিকভাবে বেড়ে ওঠেনি। ফলে আমরা হতাশ।”

এক কৃষক, সালাম মিয়া জানান, “এবার যদি ফসল ভালো না হয়, তাহলে আমাদের পুরো পরিবার বিপদে পড়বে। সার, বীজ, শ্রমিকসহ খরচের পরিমাণ অনেক বেশি, কিন্তু ফলন কিছুই হচ্ছে না।”

কৃষকরা অনেকেই দাবি করছেন, বাজারে যে বীজ বিক্রি হচ্ছে, তার বেশিরভাগই নকল বা নিম্নমানের। তারা বলছেন, এসব বীজের গুণগত মান খুবই খারাপ, যা সহজেই অঙ্কুরিত হয় না। একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন স্থানীয় দোকান থেকে বীজ কিনেছিলেন, কিন্তু বীজের মান এতটাই নিম্নমানের ছিল যে সেগুলো থেকে কোনো অঙ্কুরোদ আসেনি।

এদিকে, কিছু কৃষক অভিযোগ করছেন যে, বীজ কোম্পানিগুলি তাদের বীজের গুণগত মান নিয়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। তারা আরও জানান, একদিকে যেমন বীজের দাম বেশি, অন্যদিকে সারের দামও আকাশচুম্বী। এমন অবস্থায়, কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

ভুট্টা চাষে গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের খরচ হয় প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি, পানি এবং অন্যান্য উপকরণের খরচ। তবে, বীজ অঙ্কুরিত না হওয়ার কারণে কৃষকরা পুনরায় নতুন বীজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে তাদের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক কৃষক জানাচ্ছেন, তারা এখন পুনরায় জমি প্রস্তুত করতে এবং নতুন বীজ রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া, কৃষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ফসলের ক্ষতি ছাড়াও তাদের সময়ও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তারা বলছেন, “ফসলের ঠিকঠাক ফলন না হওয়ার কারণে আমরা সময়মতো অন্য ফসলও চাষ করতে পারছি না, যা আমাদের জন্য আরও ক্ষতিকর।”

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার কৃষি অফিস থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তারা এখনো বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেননি। তবে, কৃষকরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

একজন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিষয়টি আমরা জেনে আছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে শীঘ্রই আমরা এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে, বিভিন্ন বীজ কোম্পানি অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিছু কোম্পানি জানিয়েছে যে, তারা প্রতিটি ব্যাচের বীজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ে, তবে কিছু স্থানীয় দোকানদার নকল বা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করতে পারে। এসব বীজ কোম্পানির দাবি, তাদের সরবরাহ করা বীজগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়ে থাকে, এবং যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তা স্থানীয় বিক্রেতাদের দায়িত্ব।

এছাড়া, কিছু কোম্পানি জানিয়েছে, তারা গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মান নির্ধারণকারী সংস্থার সঙ্গেও কাজ করছে, তবে বাজারে নকল বীজের প্রবাহ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বাজারে নকল বীজের সমস্যা সমাধান করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। কৃষকদের জন্য বিশ্বস্ত বীজ কোম্পানি ও সরকারি উদ্যোগে সঠিকভাবে মান যাচাই করা বীজ সরবরাহ করা উচিত। এছাড়া, কৃষি অফিসের মাধ্যমে বীজ কোম্পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং বিক্রেতাদের উপর নজরদারি বাড়ানো উচিত।

এছাড়া, কৃষকদের সচেতন করতে বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যেতে পারে। সরকারি প্রণোদনা এবং ঋণের সুবিধা দিয়ে কৃষকদের এই বিপর্যয় থেকে কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করা যেতে পারে।

লালমনিরহাটের কৃষকরা বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। নকল বীজ এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের এবং সংশ্লিষ্ট বীজ কোম্পানির উচিত কৃষকদের দুর্দশা কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কৃষকরা যাতে তাদের ফসলের সঠিক মূল্য পায় এবং উৎপাদনে কোনো বাধা না আসে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অবিলম্বে নেওয়া উচিত।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।