রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লালমনিরহাটে ভুট্টার বীজের অঙ্কুরোদম না হওয়ায় নকল বীজের অভিযোগ

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা বর্তমানে এক নতুন আতঙ্কের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই আতঙ্কের নাম হলো ভুট্টার বীজ। কৃষকরা জানাচ্ছেন, গত কিছুদিন ধরে বাজারে বিক্রি হওয়া ভুট্টার বীজগুলোর বেশিরভাগই অঙ্কুরোদম হচ্ছে না, ফলে তাদের জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণ করা সত্ত্বেও কোনো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা পুনরায় নতুন বীজ […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:০৪

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা বর্তমানে এক নতুন আতঙ্কের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই আতঙ্কের নাম হলো ভুট্টার বীজ। কৃষকরা জানাচ্ছেন, গত কিছুদিন ধরে বাজারে বিক্রি হওয়া ভুট্টার বীজগুলোর বেশিরভাগই অঙ্কুরোদম হচ্ছে না, ফলে তাদের জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণ করা সত্ত্বেও কোনো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা পুনরায় নতুন বীজ কিনে জমিতে আবারও রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা অভিযোগ করছেন, বাজারে নকল বীজ বিক্রি হওয়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটছে। যদিও বিভিন্ন বীজ কোম্পানি এবং বিক্রেতাদের দোষারোপ করা হচ্ছে, তবে এই অভিযোগে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। উপজেলা কৃষি অফিস কিংবা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, তারা চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে বেশ ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বীজ রোপণের পর অঙ্কুরোদম না হওয়ার কারণে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, “বীজ রোপণের পর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কিছুই হয়নি। অনেক বীজ একেবারে অঙ্কুরিত হয়নি। আবার কিছু কিছু বীজ অঙ্কুরিত হলেও তা ঠিকভাবে বেড়ে ওঠেনি। ফলে আমরা হতাশ।”

এক কৃষক, সালাম মিয়া জানান, “এবার যদি ফসল ভালো না হয়, তাহলে আমাদের পুরো পরিবার বিপদে পড়বে। সার, বীজ, শ্রমিকসহ খরচের পরিমাণ অনেক বেশি, কিন্তু ফলন কিছুই হচ্ছে না।”

কৃষকরা অনেকেই দাবি করছেন, বাজারে যে বীজ বিক্রি হচ্ছে, তার বেশিরভাগই নকল বা নিম্নমানের। তারা বলছেন, এসব বীজের গুণগত মান খুবই খারাপ, যা সহজেই অঙ্কুরিত হয় না। একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন স্থানীয় দোকান থেকে বীজ কিনেছিলেন, কিন্তু বীজের মান এতটাই নিম্নমানের ছিল যে সেগুলো থেকে কোনো অঙ্কুরোদ আসেনি।

এদিকে, কিছু কৃষক অভিযোগ করছেন যে, বীজ কোম্পানিগুলি তাদের বীজের গুণগত মান নিয়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। তারা আরও জানান, একদিকে যেমন বীজের দাম বেশি, অন্যদিকে সারের দামও আকাশচুম্বী। এমন অবস্থায়, কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

ভুট্টা চাষে গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের খরচ হয় প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি, পানি এবং অন্যান্য উপকরণের খরচ। তবে, বীজ অঙ্কুরিত না হওয়ার কারণে কৃষকরা পুনরায় নতুন বীজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে তাদের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক কৃষক জানাচ্ছেন, তারা এখন পুনরায় জমি প্রস্তুত করতে এবং নতুন বীজ রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া, কৃষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ফসলের ক্ষতি ছাড়াও তাদের সময়ও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তারা বলছেন, “ফসলের ঠিকঠাক ফলন না হওয়ার কারণে আমরা সময়মতো অন্য ফসলও চাষ করতে পারছি না, যা আমাদের জন্য আরও ক্ষতিকর।”

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার কৃষি অফিস থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তারা এখনো বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেননি। তবে, কৃষকরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

একজন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিষয়টি আমরা জেনে আছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে শীঘ্রই আমরা এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে, বিভিন্ন বীজ কোম্পানি অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিছু কোম্পানি জানিয়েছে যে, তারা প্রতিটি ব্যাচের বীজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ে, তবে কিছু স্থানীয় দোকানদার নকল বা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করতে পারে। এসব বীজ কোম্পানির দাবি, তাদের সরবরাহ করা বীজগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়ে থাকে, এবং যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তা স্থানীয় বিক্রেতাদের দায়িত্ব।

এছাড়া, কিছু কোম্পানি জানিয়েছে, তারা গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মান নির্ধারণকারী সংস্থার সঙ্গেও কাজ করছে, তবে বাজারে নকল বীজের প্রবাহ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বাজারে নকল বীজের সমস্যা সমাধান করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। কৃষকদের জন্য বিশ্বস্ত বীজ কোম্পানি ও সরকারি উদ্যোগে সঠিকভাবে মান যাচাই করা বীজ সরবরাহ করা উচিত। এছাড়া, কৃষি অফিসের মাধ্যমে বীজ কোম্পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং বিক্রেতাদের উপর নজরদারি বাড়ানো উচিত।

এছাড়া, কৃষকদের সচেতন করতে বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যেতে পারে। সরকারি প্রণোদনা এবং ঋণের সুবিধা দিয়ে কৃষকদের এই বিপর্যয় থেকে কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করা যেতে পারে।

লালমনিরহাটের কৃষকরা বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। নকল বীজ এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের এবং সংশ্লিষ্ট বীজ কোম্পানির উচিত কৃষকদের দুর্দশা কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কৃষকরা যাতে তাদের ফসলের সঠিক মূল্য পায় এবং উৎপাদনে কোনো বাধা না আসে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অবিলম্বে নেওয়া উচিত।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।