শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে আবারও সংশয়

দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় পর্যটকশূন্য থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। এবার দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও জাহাজ চলাচলের অনুমতি এবং ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যার চালু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে […]

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে আবারও সংশয়

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩

দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় পর্যটকশূন্য থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। এবার দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও জাহাজ চলাচলের অনুমতি এবং ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যার চালু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পর্যটন কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

পর্যটন মৌসুম শুরুর এক মাসের বেশি সময় পর দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন পর্যটকেরা।

এবার দৈনিক পর্যটক যাওয়ার সংখ্যা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পুরো সময় দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে ১০০ টাকা ফি নেওয়া হবে। এ ছাড়া দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে সবাইকে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দ্বীপবাসী ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর্যটক না থাকায় বন্ধ থাকা হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। কোথাও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কোথাও মেরামত ও সংস্কারকাজ। অন্যদিকে, ভ্রমণপ্রেমীরাও জাহাজের টিকিট এবং হোটেল বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন।

তবে প্রস্তুতি থাকলেও ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, রুট পারমিট এবং পর্যটকদের ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যার চালু না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটক, জাহাজমালিক ও দ্বীপের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, পর্যটন মৌসুমের শুরুর কয়েকটি দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটক পরিবহনের জন্য এমভি কর্ণফুলী, বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ—এই তিনটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। জাহাজগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েস লাইসেন্স এখনো পাওয়া যায়নি। বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অনুমোদনও বাকি রয়েছে। ফলে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক পরিবহন শুরু করা কঠিন হতে পারে।

বাহাদুর আরও বলেন, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের টিকিট বুকিং করতে হবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারের মাধ্যমে। কিন্তু এখনো সেটি চালু হয়নি। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন। জাহাজ কর্তৃপক্ষ সব অনুমোদন পাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসন চূড়ান্ত অনুমতি দেয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা পড়লে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, গতবারের মতো এবারও পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিয়ে সেন্টমার্টিন যেতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি চলছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে জাহাজসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিও দূর করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। গত ২৫ অক্টোবর আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে রাতযাপনের বিষয়টি স্পষ্ট না থাকায় পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে ২৭ অক্টোবর সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানায়, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো সময়ই পর্যটকেরা দ্বীপে রাতযাপন করতে পারবেন।

এর আগে ১২ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ২৫ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় দ্বীপে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম ছিল। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ছিল রাতযাপনের সুযোগ। এ কারণে নতুন সিদ্ধান্তেও আগের নিয়ম বহাল রয়েছে বলে ধারণা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি সংশোধন করা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় বিআইডব্লিউটিএর ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা আদায় করা হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুলে দেওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পর্যটক আসা শুরু হলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আবারও সচল হবে। বাড়বে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ। ইতোমধ্যে সবাই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সময়মতো জাহাজ চলাচল শুরু না হলে তাঁদের হতাশ হতে হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। এবার পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী ও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। এ ছাড়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম শুরুর আগেই হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন না করা। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ। এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চালানোও নিষিদ্ধ। পর্যটন মৌসুমে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সারাদেশ

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান। কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক […]

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান।

কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি তিনি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছেন। আকস্মিক এই ঝড়ে তার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

কৃষকদের কাছে কলাগাছের মাজা ভেঙে যাওয়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার হিসাব। আকস্মিক এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা।