রাফি হোসন, কুবি প্রতিনিধি :
‘জুলাইয়ের পর আমরা যখন রাস্তায় ছিলাম, তখন কিছু মানুষ সচিবালয়ে, এম্বাসিতে ছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে বসে দর-কষাকষিতে ছিল, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরে নির্বাচনে কে কোন মন্ত্রণালয় পাবে। তখন ওসমানী হাদী শাহবাগে দাঁড়িয়ে মাইক নিয়ে বলেছিল, জুলাইয়ের রক্ত ক্ষমতার উপরে উঠার সিঁড়ি নয়, এটা আমাদের আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ।’
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে এসব মন্তব্য করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি আরও বলেন, ‘যখন বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ জুলাই উদযাপনে ব্যস্ত ছিল, তখন শরিফ ওসমান হাদি বলেছিল, এখন আমাদের উদযাপনের সময় আসেনি। আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করা না পর্যন্ত এই উদযাপন করা ঠিক হবে না।
আপনাদের ক্যাম্পাসে গতকাল রাতেও ছাত্রলীগের লোকজন পোস্টার লাগিয়ে, তার মানে সন্ত্রাসীরা উৎ পেতে বসে আছে কোন সময় আক্রমণ করার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারের পক্ষ থেকে তারা বেশকিছু সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর চরিত্র ভয়াবহ। চৌদ্দশ শহিদের রক্তের বিনিময়ে মধ্যে দিয়ে তারা যেই ক্ষমতায় এসেছে, সেই জুলাইকে সবচেয়ে অবহেলার জায়গায় রেখেছে।’
এ কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে মিছিল নিয়ে তারা শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন। এ সময় শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
প্রসঙ্গত, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার তিন দফা দাবি নিয়ে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পদযাত্রা করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তারা।