সাকিব মাহমুদ ইবি প্রতিনিধি,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। এতে আবরার ফাহাদ হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর এবং ভারতীয় আধিপত্যের প্রতিবাদ জানানো হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, অফিস সম্পাদক আব্দুস সামাদসহ সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা ‘আবরার ফাহাদের খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘আবরার ফাহাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘রক্ত দিয়ে লেখা নাম, আবরার তোমায় ভুলবো না’, ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস চলবে না’,‘ভারতীয় আগ্রাসন ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘দিল্লি না ঢাকা ঢাকা, ঢাকা’ এবং ‘গোলামী না আজাদী আজাদী, আজাদী’ স্লোগানও দেন তারা।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার বীজ ২০২৪ সালে বপন হয়নি; বরং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০১৩ সালের ৫ মে এবং শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতের মাধ্যমে সেই বীজ বপন হয়েছে।
২০২৪ সালে দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার বিঘ্ন ঘটিয়ে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে পারবে না। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে হলে শহীদ আবরার ফাহাদের আদর্শকে ধারণ করতে হবে। শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী ও ভারতের আনুগত্যবিহীন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন এবং তারা সেই বাংলাদেশ দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় যারা খুনি, তাদের বিষয়ে রায় হয়েছে। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেই রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। দুই হাজার শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার চলছে তাই সরকারকে মানুষের প্রতি অন্যায় না করার আহ্বান জানাই।
দেশের কোনো মানুষ যেন হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হয় এমন বাংলাদেশই ছাত্রজনতা দেখতে চায়। শহীদ আবরার ফাহাদ যে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
একই সঙ্গে আবরার ফাহাদ হত্যার রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রায় বাস্তবায়ন না করলে ছাত্রসমাজ সরকারকে ছাড়বে না।