মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
শরিফুজ্জামান সোহাগ শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় অফিসার ক্যাশ পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতেন। পরে ওই অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কয়েকদিন ধরে শ্রীনগর শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় ও বিক্ষোভ দেখা যায়। টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন তারা।
ব্যাংক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই দিনে ২৩০ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে রোববার ১৮৪ জন এবং সোমবার আরও ৪৬ জন অভিযোগ দেন। এসব অভিযোগে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আত্মসাতের মোট অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, তারা শরিফুজ্জামানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো লেনদেন করেননি; অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমেই তারা টাকা জমা দিয়েছেন। ব্যাংকের নিজস্ব জমা স্লিপ ব্যবহার করেই তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক কার্যালয়ে এ ধরনের লেনদেন চলার পরও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি কীভাবে জানতে পারেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহকরা।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত কি না এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানিয়েছিলেন, শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনেও বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সৌরভ জমাদ্দার বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একটি টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। গ্রাহকরা যাতে তাদের টাকা ফেরত পান, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শরিফুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আরও কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।