নাটোরের গুরুদাসপুরে আবাসিক একটি মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীর অচেতন মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াপদা বাজার এলাকার হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ওই ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী মাদ্রাসাটির আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। সেখানে থেকে তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর মা ও খালু তাঁকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর কারণ নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাসপাতালে নেওয়ার সময় ছাত্রীর মা মাদ্রাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার কথা বলেছিলেন। আবার তাঁকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার সুপার ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার সুপার ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় ময়নাতদন্তের পর মরদেহ রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় নিহত ছাত্রীর মা ও স্বজনেরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।
নিহত ছাত্রীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সেই বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিলাম।’তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি পুলিশ।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসায় বেশ কয়েকজন ছাত্রী আবাসিক থেকে কোরআন হিফজ করছেন। মাদ্রাসার ভেতরে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—তদন্তের আগে তা বলা সম্ভব নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ওই ছাত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।