রাশিয়া ও ইরানের পাশাপাশি তাদের বাণিজ্যিক সহযোগীদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনা একটি বিল হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রক্রিয়াগত অনুমোদন পেয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় ভারতও রয়েছে।
বুধবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলটির প্রক্রিয়াগত ভোটে পক্ষে ২১৪ এবং বিপক্ষে ২১১ ভোট পড়ে।
বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের একাংশের অভিযোগ, বিলটির মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধি অতিরিক্ত বাড়ানো হচ্ছে। তবে দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দিয়ে বিলটির প্রক্রিয়াগত অনুমোদনে সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স বিলটিতে একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন। এতে অন্য দেশের ওপর ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আরোপে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেওয়া ১১৩ নম্বর ধারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যাবে। হাউসে বিলের সঙ্গে উত্থাপিত সংশোধনী প্রস্তাবে ভারত ও চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানও সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সেনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। তবে সেনেট সংস্করণে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে রাশিয়ার তেল আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচটি দেশের কথা বলা হয়েছিল। হাউস সংস্করণে ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশের নাম সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পরপরই ওয়াশিংটনে রাশিয়াবিরোধী এই বিল নিয়ে তৎপরতা নতুন করে বেড়েছে।
বর্তমানে রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। এরপরই রয়েছে ভারত। এ ছাড়া স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান ও জাপানও রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিলটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হলে এবং এসব দেশ রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখলে তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছে, মার্কিন বিলটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় রেখেই ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপর ৯ নভেম্বর কংগ্রেসের অধিবেশন বসলে বিলটির চূড়ান্ত ভোটাভুটি হতে পারে। সেই প্রক্রিয়ার পরই বিলটির ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক নিয়ে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?