নোয়াখালী প্রতিনিধি;
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৭নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের যোবায়ের বাজারের দক্ষিণ মাথায় সরকারি খাল ভরাট করে সারি সারি দোকানঘর নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গার খালের অংশ মাটি-বালু দিয়ে ভরাট করে ধীরে ধীরে দোকানভিটি তৈরি করে লাখ টাকা ভাড়া আদায় করেছে ঐ গ্রামের হাজি আজিজুর রহমানের ছেলে মাষ্টার অলি উল্লাহ নামে আওয়ামী মধু খাওয়া এক নেতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, যোবায়ের বাজার দক্ষিণ মাথায় খাল শ্রেণীর জায়গার উপর ৮টি টিনশেড দোকান ঘর নিমার্ণ করে ভাড়া দিয়েছে মাষ্টার অলি উল্লাহ নামে ঐ ভূমিদস্যু। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসন আমলে জেলা আ,লীগের কিছু নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দলীয় ক্ষমতার দাপড়ে খাল ভরাট করে মার্কেটটি নিমার্ণ করা হয়।
যার ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নব্য বিএনপির এই নেতার দাপড়ে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতারা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
একাধিক সূত্র এই প্রতিবেদকে জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে টার্গেট করে উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা নিজের ভোট ব্যাংক বাড়াতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগের সুবিধাভোগী অলির মতো অনেককে দলে টেনে নিয়েছে।
তারাই মাঠে দাপড়ের সাথে জমি দখল, সালিশী বাণিজ্যে মতো ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে দলের বদনাম রটাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অলি মাষ্টার বলেন, আপনার বাড়ি কোথায়, কোন পত্রিকায় কাজ করেন। সাক্ষাতে কথা বলেন, আমি আর কিছু বলতে চাই না। এই বলে ফোনের সংযোগটি কেটে দেন। পরে প্রতিবেদক বার বার ফোন করেও তার কোন বক্তব্যে নিতে পারেনি।
অভিযোগ নিয়ে তার বক্তব্যে যার ফলে সংবাদে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি যোগাযোগ করলে তা যাচাই-বাচাই করে প্রকাশ করা হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—সরকারি জায়গা বা খালের অংশ হওয়ায় দিনের পর দিন কীভাবে তা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো? সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায় ছিল?
দখল হওয়ার পর ততপর, তথ্য পেলেও জরুরি পদক্ষেপ কেন নয় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের দিকে।
জমির শ্রেণি প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিবর্তন করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ কারা করে দিয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক মহল। একই সঙ্গে খাল ভরাট ও দোকান নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন বা ইজারা রয়েছে কি না, তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজরদারি ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরেজমিনে পরিমাপ করে খালের সীমানা নির্ধারণ, দাগ-খতিয়ান যাচাই এবং অবৈধ স্থাপনা গুলো আইন অনুযায়ী দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন জানান, দক্ষিণ পাশের খালের উপর মার্কেট নিমার্ণ বিষয়টি আমরা জেনেছি।
লুৎফর রহমান ও অলি মাষ্টার উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় বিষয়টি নিয়ে সামনের দিকে আগানো যাচ্ছে না। মামলার চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদ ভূমি অফিসের জিম্মায় নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন এই প্রতিবেদকে।
খালটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত এবং দোকান নির্মাণের বৈধ অনুমতি না থাকলে, সরকারি জায়গা উদ্ধারে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের জানান স্থানীয়রা।