শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
শরতের নিঝুম রাতে মেঠো সুরের মূর্ছনা আর ভাবধারার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে মায়াবী এক আবহে হারিয়ে গিয়েছিল পুরো এলাকা। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দড়িখাগা পিততলায় আয়োজন করা হয়েছিল গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ বাউল সংস্কৃতির উৎসব।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হয় সুরের এই আত্মিক যাত্রা।
৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেম্বার ওমর আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাফি আল আমিন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি আমাদের শেকড় ও আত্মপরিচয়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অপসংস্কৃতির যে আগ্রাসন চলছে, তা থেকে তরুণ সমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত ধারায় ফেরাতে এমন আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। আমাদের প্রাচীন বাউল ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে তৃণমূলের এই উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
উৎসবের মঞ্চে প্রবীণ ও নবীন সাংস্কৃতিক অনুরাগী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাত আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর, খানপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা, খানপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিম শেখ, যুবদল নেতা আব্দুল হান্নান, সাবেক মেম্বার আব্দুল জলিল, সমাজসেবক সফি, ইউনুস, রুহুল আমীন, লিপন, তোতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গভীর রাতে সুরের আসর ও স্রোতাদের ব্যাকুলতা
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই শুরু হয় আসল আকর্ষণ—মূল গানের আসর। রাত বাড়ার সাথে সাথেই দূর-দূরান্ত থেকে পিততলার এই মেঠো প্রাঙ্গণে সমাগম হতে থাকে শত শত সুরপিয়াসু মানুষের। দেশের নামীদামী বাউল শিল্পীরা একে একে মঞ্চে উঠে পরিবেশন করেন হৃদয়স্পর্শী বিচ্ছেদী, আধ্যাত্মিক মারফতি ও দেহতত্ত্ব গান।
শিল্পীদের একতারা আর দোতারার টানে পুরো পিততলা এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে মগ্ন হয় এক স্বর্গীয় অনুভূতির গভীরে। প্রথাগত জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ভুলে গভীর রাত অবধি উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক গানপ্রেমী দর্শক-শ্রোতা পিনপতন নীরবতায় সুরের সুধা পান করেন। রাত শেষ হয়ে ভোরের আলো ফুটলেও দড়িখাগার বাতাসে রয়ে যায় বাউল সুরের অনুরণন।