বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে যে সংবিধান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে, এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অটোমেটিক যে-ই যাবে লংকায়, সে-ই হবে হনুমান। যে-ই ক্ষমতায় যাবে, পাঁচ-দশ বছর পর সে-ই হাসিনায় পরিণত হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ঔরসজাত সন্তান। আমরা আপনাকে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি বরণ করতে দেখতে চাই না। তাই আমরা আপনাকে সতর্ক করছি।
সমাবেশে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার দাবি জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বর্তমান ৭২-এর সংবিধান সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত করে দিয়েছে। এ ব্যবস্থার বদল না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো সম্ভব নয়।
ভারসাম্যমূলক রাজনৈতিক কাঠামো তৈরিতে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতি পদটি কেবল আলংকারিক বা ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হিসেবে রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে বাস্তবসম্মত কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থেকে বিচার বিভাগকে বের করে আনতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে। এতে কোনো দলীয় বিচারপতি জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশ ‘দলীয় ক্যাডারে’ পরিণত হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল’ জাতীয় কোনো দলীয়করণ দেখতে চায় না সাধারণ মানুষ। পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে মেধার ভিত্তিতে প্রশাসনে নিয়োগ সুনিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মামুনুল হক আরও বলেন, নতুন সরকারকেও আগের স্বৈরাচারী কাঠামোর পুনরাবৃত্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ফজলুল হক শাহের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুফতি ইসরাফিল আলমের সঞ্চালনায় এ সময় অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জোবায়ের হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।