রাজধানীর বাজারে একই সঙ্গে বেড়েছে ডিম, সবজি ও সয়াবিন তেলের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা যোগ হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ৫৫ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
আমিষের সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে পরিচিত ফার্মের ডিমের দাম এখন প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা। চারটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৫ টাকা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, ডজন হিসেবে কিনলেও এখন আর আগের মতো দাম কম রাখার সুযোগ নেই।
তেল-সবজিতেও বাড়তি চাপ
নতুন দাম নির্ধারণের পরও খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। গত সপ্তাহের তুলনায় লিটারে ৫ টাকা বেড়ে তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৪ টাকায়।
সবজির মধ্যে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আগাম শিম কিনতে সবচেয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজির দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা ও গোল বেগুন ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বরবটি, ঝিঙে, করলা ও কচুরমুখির কেজি ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।
এক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১২০ টাকা। এখন একই পরিমাণ মরিচ কিনতে দিতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। তবে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থাকায় এই সবজিতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা।
বাজার করতে আসা ইব্রাহিম জানান, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম অন্তত ১০ টাকা করে বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে খুব কম সবজি পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো ও বেগুনের মতো নিয়মিত কেনা পণ্যের কেজিও ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে।
শাকের দামে তুলনামূলক স্বস্তি
অন্যান্য সবজির তুলনায় শাকের দাম কম রয়েছে। লাল ও কলমি শাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা, কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি পুঁইশাকের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ শাকের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা।
মাংস স্থির, মাছের বাজার চড়া
মুরগি ও গরুর মাংসের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতেও ক্রেতাদের বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হচ্ছে। তেলাপিয়ার কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। রুই-কাতলা পাওয়া যাচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায়। বড় রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা হলেও মাঝারি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
চিংড়ির কেজি আকারভেদে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ও শোল ৭০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছসহ কয়েক ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
মাঝারি রুইয়ের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। দেশি ও বেশি চাহিদাসম্পন্ন মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে নদীর বেলে মাছ কিনতে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।